National Events




Recent Articles

গঙ্গাঋদ্ধি থেকে বাংলাদেশ-এর উপসংহারে আমি বলেছিলামঃ ‘বাঙালি নাকি কোনো দিন স্বাধীন ছিল না! যে অর্থে আমরা “স্বাধীন” বা “স্বাধীনতা”র কথা ব্যবহার করি, তা দু’শ বছর আগে সে অর্থে ব্যবহৃত হতো না। এখনো কথাটা খুব পরিষ্কার নয়। অর্থনৈতিক অর্থে ‘স্বাধীন’ শব্দটা আন্তর্জাতিক পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে কখনো ভাসছে, আবার কখনো ডুবছে। এই অর্থে পৃথিবীতে কয়টি স্বাধীন রাষ্ট্র আছে তা আমরা হাতের আঙ্গুলে গুনতে পারব। ব্যাপক অর্থে সেই দেশকে প্রকৃত স্বাধীন বলা যেতে পারে, যে দেশের প্রতিটি মানুষের জীবনে স্বাধীনতার আশীর্বাদ সহজে পরিলক্ষিত হয়। এই অর্থে স্বাধীন হতে আমাদের বহুযুগ অপেক্ষা করতে হবে। সাধারণ অর্থে “স্বাধীন” মানে রাজনৈতিক স্বাধীনতাই বোঝায়। বাংলার বাংলা যা অতীতে সমতট ও বঙ্গ বলে পরিচিত ছিলো তা অন্যান্য অঞ্চল থেকে সবচেয়ে কম পরাধীন ছিলো। রাঢ় ও বরেন্দ্রের ভাগ্য তেমন সুপ্রসন্ন ছিলো না, ওগুলোর ওপর দিয়ে অনেক ঝড়-ঝাপটা বয়ে গেছে।

মার্চ ১৯৭১-এ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাস করছিলেন তাঁর ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের ৬৬৭ নম্বর বাড়িতে। সে সময় কার্যত তাঁরই নির্দেশে চলছে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান। এই বাড়ি থেকেই তিনি জারি করছেন বিভিন্ন নির্দেশ। ২৫ মার্চ রাতে পাক সেনারা নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। একই সঙ্গে ওই বাড়ি থেকে তারা গ্রেপ্তার করে বঙ্গবন্ধুকে। ২৫ মার্চ ১৯৭১ সারা দিন ওই বাড়ি ও সড়কে কী ঘটেছিল, তা তুলে ধরা হলো এই লেখায়।

এবার দেশে এসে কোনো সাক্ষাৎকার দেব না-এটাই ঠিক করে রেখেছিলাম। এ লেখাটাও আসলে লেখা নয়। কথোপকথনের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। প্রথম আলো থেকে আমাকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। আমি এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে প্রাসঙ্গিক কিছু কথা বলব।

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের শুরুতেই পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ঢাকা বেতার কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। পাকিস্তানিরা রেডিও স্টেশনটির নতুন নাম দেয় ‘রেডিও পাকিস্তান ঢাকা’। এ কেন্দ্র থেকেই তারা সামরিক আইন জারির ঘোষণা দেয়। বাঙালিদের কণ্ঠ রোধ করতে ইতিমধ্যেই পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর তৎপরতা শুরু হয়ে গিয়েছিল। তবে বাঙালিরা ঠিকই প্রতিরোধ গড়েছিল এবং লড়াইয়ে ফিরে এসেছিল। শুরু হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধ।

১৯৭১ সালে মানবতার বিরুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের অপরাধের বিচার করতে ব্যর্থ হওয়ায় আমাদের স্মৃতিবিলোপ ঘটছে। স্মৃতিতে ফিকে হচ্ছে একাত্তর। দায়মুক্তির কারণে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নিজেদের দেশে বারবার ‘জাতির ত্রাতা’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। একই কারণে বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীরা সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। বিস্তার করেছে রাজনৈতিক প্রভাব। তাদের বিচারের ব্যর্থতা আঘাত হেনেছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে; নিজেদের বিশ্বাস, পরিচয় ও লৈঙ্গিক কারণে যাঁরা একাত্তরে সহিংসতার শিকার হয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে নতুন করে ভয় ও নিরাপত্তাহীনতা ছড়িয়ে দিচ্ছে।

No articles found.


Popular Authors

No popular authors found.