National Events




Recent Articles

‘অনাগত নতুনের বরণ ডালা মেলে, সাম্যের গান গাই মৈত্রী বারি বর্ষণে’—এ স্লোগান সামনে রেখে বান্দরবান পার্বত্য জেলায় প্রতি বছরের মত এবারও উদযাপিত হচ্ছে বর্ষবরণ উত্সব সাংগ্রাই পোয়েঃ। এই উপলক্ষে মারমা, চাকমা, ত্রিপুরা, লুসাই, খিসা, চাক, খেয়াং, ম্রোসহ বিভিন্ন পাহাড়ি পল্লীগুলো বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে। চলছে উত্সব আয়োজনের ধুম। সর্বত্র সাজ সাজ রব।
রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, ‘প্রতিদিন মানুষ ক্ষুদ্র, দীন, একাকী। কিন্তু উত্সবের দিনে মানুষ বৃহত্, সে সমস্ত মানুষের সঙ্গে একত্র হইয়া বৃহত্, সেদিন সমস্ত মনুষ্যত্বের শক্তি অনুভব করিয়া বৃহত্...।’ নিজেদের জীবনেও আমরা দেখি, একা একা আমরা কত অসহায়। অথচ দলেবলে থাকলে কী উচ্ছল। তার নমুনা দেখা যায় উত্সব অনুষ্ঠানে। দেখা যায় পহেলা বৈশাখের উত্সবাদিতে। বাংলা নববর্ষ আমাদের সবচেয়ে বড় ধর্মনিরপেক্ষ সামাজিক উত্সব। তবে একদা পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে গড়ে উঠেছিল আর্থ-সামাজিক কর্মকাণ্ডের সংস্কৃতি। পুণ্যাহ, হালখাতা এবং মেলা তার প্রমাণ। তিনটি অনুষ্ঠানই ছিল নিখাঁদ অর্থনৈতিক লেনদেন সম্পৃক্ত। আর সেই লেনদেনের জন্যই জনসমাগম। সামাজিক দেখা-সাক্ষাত্। সামাজিক মেলামেশার জন্য নববর্ষের অনুষ্ঠান তৈরি হয়নি। যেটা আমরা এখন করছি।
বাংলা ভাষা পৃথিবীর এক অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও সমৃদ্ধ ভাষা। পৃথিবীর প্রায় চার হাজার ভাষার মধ্যে জীবিত যে দেড়শ’ মৌলিক ভাষা রয়েছে, তার মধ্যে বাংলা ভাষার অবস্থান ষষ্ঠ অবস্থানে। প্রথম দিকের ক্রমিকে যেসব ভাষা রয়েছে এগুলোর মধ্যে খোদ ইংরেজি ভাষারই নিজস্ব বর্ণমালা না থাকায় ধার করা রোমান বর্ণমালায় তারা চলে। তাদের নিজস্ব কোনো সনও নেই। বাংলা ভাষা এদিক থেকে এক অনন্য স্বাতন্ত্র্যের দাবিদার। বাংলা ভাষার স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণ মিলে রয়েছে ৫০টি হরফের একটি নিজস্ব বর্ণমালা। অপরদিকে সিলেটী নাগরী নামে বাংলা ভাষার রয়েছে ৩২ হরফের আরেকটি স্বতন্ত্র বর্ণমালা। একই ভাষার দু-দুটি বর্ণমালা থাকার কারণে বাংলা পৃথিবীর অন্যতম এক শ্রেষ্ঠ ভাষা।
বাংলাদেশের বৌদ্ধধর্ম খুবই সুপ্রাচীন। গৌতম বুদ্ধের জীবদ্দশাতেই বৌদ্ধধর্ম এদেশে প্রচারিত হয়েছিল। পাল রাজত্বের সময় (অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতাব্দী) বাঙালি বৌদ্ধরা চারশ’ বছর এদেশ শাসন করেছিল। এছাড়া চন্দ্রবংশ, দেববংশ ও খজাবংশ নামে বৌদ্ধ রাজবংশও বিভিন্ন এলাকায় রাজত্ব করেছিলেন। অতীতের বৌদ্ধ গৌরব ও ঐতিহ্য সোমপুরী মহাবিহার (পাহাড়পুর), শালবন বিহার (কুমিল্লা), বাসুবিহার (বগুড়া প্রাচীন পুন্ড্রবর্ধন) এবং পণ্ডিত বিহার (চট্টগ্রাম)-এর ধ্বংসাবশেষ থেকে আবিষ্কৃত হয়ে আলোর পাদপ্রদীপে এসেছে। বাঙালি বৌদ্ধ মনীষী অতীশ দীপংকর, পণ্ডিত শীলভদ্র শান্তি রক্ষিত, কমল শীল, চন্দ্রগোমিন বাংলার সীমা পেরিয়ে বিশ্বে জ্ঞানচর্চার মশাল জ্বালিয়েছিলেন। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পটপরিবর্তনের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে বৌদ্ধধর্ম অন্তর্ধান করলেও বৃহত্তর চট্টগ্রাম বরাবরই বৌদ্ধধর্মের শিক্ষাকে অম্লান রেখেছিল। বর্তমানের বাঙালি বৌদ্ধ সম্প্রদায় এদেশের আদি বৌদ্ধদের বংশধর—এরা এদেশের ভূমিজ সন্তান।
কবে নববর্ষ তথা বর্ষবরণ উত্সবের উদ্ভব হয়েছিল তার প্রামাণ্য কুষ্টিনামা নেই। নেই এ উত্সব উদযাপনের কোনো নির্দিষ্ট বা সর্বজনীন একক পদ্ধতি।

পণ্ডিতদের ধারণা, আজ থেকে প্রায় চার হাজার বছর আগে নববর্ষ তথা বর্ষবরণ উত্সবের সূচনা হয়েছিল ব্যাবিলনে। তখন বছর শুরুর ঋতু ছিল বসন্তকাল। নতুন কুঁড়ি, অঙ্কুরোদ্গম বা ফসল উত্পাদনের জন্য বসন্ত ঋতু ছিল প্রশস্ত সময়। চাষাবাদের এ সময়কে কেন্দ্র করে বর্ষ শুরুর রেওয়াজ গড়ে উঠেছিল সেখানে। ইতিহাস জানাচ্ছে, খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দে চান্দ্রমাস অনুসারে নববর্ষ উত্সব উদযাপন করা হতো ব্যাবিলনে। পরে জুলিয়াস সিজার প্রবর্তিত ক্যালেন্ডারে এ দিনটি চিহ্নিত হয় ২৩ থেকে ২৫ মার্চের মধ্যে। বিভিন্ন অঞ্চলে বর্ষ গণনার যে হেরফের দেখা যায়, তার একটি প্রধান কারণ হচ্ছে বর্ষগণনার একাধিক পদ্ধতির অনুসরণ। বিশ্বে এখন পর্যন্ত চালু রয়েছে তিন ধরনের বর্ষপঞ্জি—চান্দ্র বর্ষপঞ্জি, চান্দ্র-সূর্য বর্ষপঞ্জি এবং সৌর বর্ষপঞ্জি। এর মধ্যেও আবার নামের ভিন্নতা রয়েছে। যেমন ইরানে শামসি বর্ষপঞ্জি, বঙ্গদেশে বাংলা বর্ষপঞ্জি ইত্যাদি।
No articles found.


Popular Authors

No popular authors found.