National Events

রাজনীতি




আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট বলল, ২২ জানুয়ারির নির্বাচন হবে না। ঘেরাও, টানা হরতাল-অবরোধের ঘোষণা দিয়ে নির্বাচন প্রতিহতের ডাক এল এ জোটের পক্ষ থেকে। অন্যদিকে বিএনপির নেতৃত্বে চারদলীয় জোট বলল, নির্বাচন হবে। বাধা এলে প্রতিহত করা হবে। কেমন যেন একটা ‘যুদ্ধের গন্ধ’। প্রধান উপদেষ্টা ড· ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ সব কিছু দেখেশুনেও নির্বিকার। তাঁর মুখ ফুটে বেরোল একটিমাত্র শব্দ, ‘দেখছি’।
ট্র্যাক মেরামতেই বছর কেটে গেল বর্তমানে ১/১১ শীর্ষক একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা, লেখালেখি, টিভি টক-শো, সভা-সেমিনার, এমনকি এক ধরনের প্রচার-প্রচারণা চলছে। সেই সকল কার্যক্রম পর্যালোচনা করে সর্বপ্রথমে ভাবছি, বর্তমানে যে সরকারটি ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত আছে তাদের স্বরূপ কী-এই প্রশ্নটির মীমাংসার প্রয়োজন আছে কি না। এমনকি ‘কার্যকাল’ সংজ্ঞাটিরও বিশ্লেষণ প্রয়োজন। অন্যান্য অতীত সরকারের, একমাত্র সামরিক শাসক ব্যতীত, সবারই কার্যকাল নির্দিষ্ট ছিল। এখন যারা ক্ষমতায় আছেন তাদের কার্যকাল কবে শেষ হবে তা নিয়ে আপাতত কোনো ভবিষ্যদ্বাণী করব না।
(এমাজউদ্দীন আহমদ) ইউনেস্কোর (UNESCO) ভূমিকা লেখা হয়েছেঃ ‘যেহেতু মানব মনেই যুদ্ধের সূচনা হয়ে থাকে তাই মানব মনেই শান্তি সংরক্ষণের চেতনা দৃঢ়তর করতে হবে’ (Since wars begin in the minds of men it is in the minds of men that the defences of peace must be constructed). সত্যি বটে যুদ্ধ বা সন্ত্রাসের জন্ম হয় মনে এবং শান্তির জন্য মানসিক প্রস্তুতি সম্পূর্ণ না হলে যুদ্ধ বা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অলঙ্ঘনীয় দেয়াল তোলা সম্ভব হয় না।
চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা নিয়ে শুরু হয়েছিল ২০০৭ সাল। আর শেষও হচ্ছে আরেক ধরনের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা নিয়ে। এ বছরের শুরুতে, ২২ জানুয়ারি যে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল সেটা আদৌ হবে কি না, বা হলেও আর কত রক্ত ঝরবে এটাই ছিল সে সময়ের সবার মনে প্রশ্ন।
১৯৯১ থেকে পাঁচ বছর পরপর যেভাবে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল, সেই ধারা অব্যাহত থাকলে ২০০৭-এ আরেকটি নির্বাচনের মাধ্যমে যে সরকার গঠিত হতো, তার বর্ষপূর্তির আয়োজন করতে হতো ২০০৮-এর জানুয়ারিতে। নির্বাচনের দিন ধার্য হয়েছিল ২২ জানুয়ারি। মনোনয়নপত্রও জমা পড়ে। কিন্তু তার ১১ দিন আগে রাষ্ট্রপতি দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেন এবং একটি নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে।


Popular Authors

No popular authors found.