National Events

বিজয় দিবসঃ ১৬ই ডিসেম্বর

(Page 1 of 4)   
« Prev
  
1
  2  3  4  Next »



মুক্তিযুদ্ধের কথা যখন স্মরণ করি তখনই অনুধাবনে আসে যে, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ছিল এই জাতির চার হাজার বছরের দীর্ঘ ইতিহাসের উজ্জ্বলতম অধ্যায়। এই যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মুক্তিযোদ্ধারা হলেন এই জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। সমুদ্র সৈকতে বালুকারাশির মধ্যে তিল তিল করে যেমন সঞ্চিত হয় মহামুল্যবান রত্মভান্ডার, সমুদ্রের বেলাভুমিতে, সমুদ্রের আকর্ষণে, অসংখ্য স্রোতস্বিনীবাহিত পলি হাজার হাজার বছর সঞ্চিত হয়ে তেমনি সৃষ্টি করে উন্নত জীবনের স্বর্ণদ্বীপ।
১৯৭১-এর ১৬ ডিসেম্বরের সঙ্গে আজকের বিজয় দিবসের কী দুস্তর ফারাক! সেটাই স্বাভাবিক। সময়ের ব্যবধানে পরিবর্তন তো হবেই। কোনোকিছুই এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে না। তাই বলে এতটা ফারাক?
বাঙালি উৎসবপ্রিয় জাতি। আর্থিক দিক দিয়ে বাঙালি (বলতে কৃষক) চিরকাল দরিদ্র। দারিদ্র্য সত্ত্বেও তার মুখের হাসি কখনো মিলায় না। সুযোগ পেলেই সে উৎসবে মাতে। বাংলাদেশে বারো মাসে তেরো পার্বণ। তেরোর বাইরেও বাঙালি বহু পার্বণ বা উৎসবের দিন তৈরি করে নিয়েছে।
এখন থেকে দেড় শ বছর আগেও বাংলা ও বাঙালির ইতিহাস ছিল না, তাই বঙ্কিমচন্দ্র আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ‘বাঙ্গালার ইতিহাস নাই, যাহা আছে তাহা ইতিহাস নয়।··· বাঙ্গালার ইতিহাস চাই, নহিলে বাঙ্গালার ভরসা নাই।··· কে লিখিবে? তুমি লিখিবে, আমি লিখিব। যে বাঙ্গালী তাহাকেই লিখিতে হইবে। মা যদি মরিয়া যান, তবে মার গল্প করিতে কত আনন্দ।
আর্চার কে ব্লাডের জন্ম ১৯২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে। ১৯৪৭ সালে তিনি মার্কিন পররাষ্ট্র বিভাগে যোগ দেন। তিনি প্রথম ঢাকায় মার্কিন কনসাল জেনারেলের অফিসে যোগ দেন ১৯৬০ সালে, পলিটিক্যাল অফিসার ও ডেপুটি প্রিন্সিপাল অফিসার হিসেবে। দুই বছর দায়িত্ব পালনের পর তিনি প্রথমে আফগানিস্তান এবং সেখান থেকে এথেন্সে বদলি হন। তিনি আবার ঢাকায় ফিরে আসেন ১৯৭০ সালে পূর্ব পাকিস্তানে মার্কিন কনসাল জেনারেল হিসেবে। আর্চার ব্লাড ১৯৭১ সালের জুন পর্যন্ত ঢাকায় দায়িত্ব পালন করেন।
স্বাধীনতার পর পেরিয়ে গেছে ৩৬টি বছর। এই দীর্ঘ সময়ে স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসে গালভরা অনেক কথা বলা হলেও বীরশ্রেষ্ঠদের স্মৃতি রক্ষার্থে নেওয়া হয়নি তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ। ফলে এরই মধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে অনেক স্মরক, হারিয়ে গেছে বহু স্মৃতি।
গ্রিক ট্র্যাজেডির শেষ অঙ্কে যেমন ঘটনা অভিনব কায়দায় মোড় নেয়, বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের শেষ পর্বে পক্ষে-বিপক্ষে জড়িত শক্তিগুলোর মধ্যে তেমনি মোড় নেওয়া লক্ষ করা যায়। তারই সাক্ষ্য বহন করছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের গোপন নথিগুলো।
১৯৭১ সালে পাকিস্তানি দখলদার ও তাদের এ দেশীয় সহযোগীদের নির্যাতনের শিকার হন বাংলাদেশের লাখ লাখ নারী। সেই নির্যাতনের ফসল ‘যুদ্ধশিশু’দের ওপর গবেষণা করতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি লেখক ও গবেষক ড· বীণা ডি’কস্টা অস্ট্রেলীয় চিকিৎসক ড· জিওফ্রে ডেভিসের খোঁজ পান।
১০ এপ্রিল ১৯৭১, ঠিক যেদিন বাংলার এক প্রান্তে মুজিবনগর সরকার শপথ নিচ্ছে, সেদিনই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমস-এর ‘লেটারস টু দি এডিটর’ কলামে ‘হোম রুল ফর বেঙ্গল’ শিরোনামে এক প্রতিবাদপত্র প্রকাশিত হয়।
১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১, বৃহস্পতিবার, বিকেল চারটা পঞ্চান্ন মিনিটে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় অধিনায়ক লে· জেনারেল এ এ কে নিয়াজি বাংলাদেশ-ভারত মিত্র বাহিনীর অধিনায়ক লে· জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
(Page 1 of 4)   
« Prev
  
1
  2  3  4  Next »