এ বছর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ৯ বছর পূর্তি হলো। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো কতৃêক অমর একুশের মর্যাদা ছড়িয়ে গিয়েছিল বিশ্বজুড়ে দিবস ঘোষণার মাধ্যমে। কিন্তু আমরা সবটুকু মর্যাদা অর্জন করতে পেরেছি কিনা তা খতিয়ে দেখার বিষয়টিও আমাদের দায়িত্ব। যতদূর জানি এখন পর্যন্ত এই দিবসের কথা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মানুষের কাছে পৌঁছায়নি। বাংলা একাডেমীতে চাকরি সূত্রে জানি নোবেল বিজয়ী প্রখ্যাত লেখক জাপানে কেনজাবুরো ওয়ে এবং জার্মানির লেখক গুস্টার গ্রাসকে বাংলা একাডেমীর অমর একুশে গ্রন্থমেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। আমন্ত্রণপত্রে বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক স্বল্পপরিসরে একুশের প্রেক্ষাপট বলে দিয়েছিলেন। দুইজন লেখকই তাদের আসতে না পারার জন্য ব্যক্তিগত অপারগতার কথা জানিয়েছেন, কিন্তু একুশ সম্পর্কে উৎসাহ দেখিয়ে একটি বাক্যও লেখেননি। প্রখ্যাত লেখকরা যদি একুশ সম্পর্কে এমন মনোভাব দেখান, তাহলে শিক্ষিত সাধারণ মানুষ একুশ সম্পর্কে আর কিই বা জানবেন। সবচেয়ে অবাক লাগে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের অঙ্গরাজ্য পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০০০ তারিখে প্রকাশিত ‘দেশ’ পত্রিকার সম্পাদকীয় পড়ে। এখানে লেখা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত সপ্তাহে একদিন ‘দেশ’ পত্রিকার সম্পাদককে ঘরোয়া কথোপকথনে বলছিলেন, কীভাবে রাষ্ট্রসংঘের প্রধান কর্মাধ্যক্ষ কফি আনানের সঙ্গে নিজে কথা বলে তিনি গত ১০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের তরফ থেকে ‘ভাষাবর্ষের’ দাবিটা প্রথম উত্থাপন করলেন-এবং নিজের আমলাদের বললেন, ‘প্রথাসিদ্ধ কাগজপত্র, ‘সাপোর্টিং পেপার’ তৈরি হবে পরে, কিন্তু এখনই আজ রাত্রেই প্রস্তাব পাঠিয়ে দিতে হবে নিউইয়র্কে’- এই সহস্রাব্দের প্রথম বৎসরটিকেই চিহ্নিত করতে হবে বিশ্বের ‘ভাষাবর্ষ’ হিসাবেঃ তারই রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপের ফলে- বাংলা ভাষার কথা স্মরণে রেখে- ২০০০ সালকে রাষ্ট্রসংঘ ঘোষণা করেছে ‘ভাষাবর্ষ’ হিসাবে।

এই সম্পাদকীয়তে যে ‘ভাষাবর্ষ’ প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়েছে তা কতটা অজ্ঞতাবশত হয়েছে তা ব্যাখ্যার অবকাশ রাখে না। স্মৃতি থেকে লেখার কারণেও এমনটি হয়েছে। সম্পাদকীয়ের কোথাও বলা হয়নি যে, একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে ঘোষিত হয়েছে এবং পৃথিবীর সব দেশে ঐ দিনে তা পালিত হবে। অর্থাৎ ইউনেস্কোর উপযুক্ত ঘোষণার খবরটিও সম্পাদকের দৃষ্টি পত্রিকার পৃষ্ঠা থেকে এড়িয়ে গেছে। এই যদি হয় প্রতিবেশী দেশের অবস্থা, তাহলে দূর দেশগুলো নিয়ে ভাবনার আর কোনো অবকাশ নেই। তাই এখন কঠিন দায়িত্ব একুশের ইতিহাস ও তাৎপর্য বিশ্ববাসীকে জানানো। এজন্য সরকারি, বেসরকারি উদ্যোগ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। এটা না জানতে পারলে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস শুধুই নামসর্বস্ব হবে, থাকবে না গৌরবের আধিক্য। ফিরে তাকাতে চাই নিজেদের আর্থ-সামাজিক পটভূমির দিকে। দেখতে চাই আমাদের মাতৃভাষার সঙ্গে শিক্ষার অবস্থান এবং অন্যান্য বিষয়।

এক· এখনো বাংলাদেশে এমন গ্রাম আছে, যেখানে শিক্ষাকে মনে করা হয় ‘অকাজ’। এই ‘অকাজ’টি মেয়েরা করবে বলে মেয়েদের স্কুলে পাঠায় তারা। আর ছেলেদের এই ‘অকাজটি’ করতে না দিয়ে তাদের উপার্জন করার জন্য নিয়োগ করা হয়। তারা বাবার সঙ্গে নানা ধরনের কাজ করতে যায়। শিক্ষার ক্ষেত্রে জনগণকে সচেতন করা একটি অন্যতম কাজ। যেজন্য সচেতন জনগোষ্ঠী এখানে গড়ে ওঠেনি। মানুষ দারিদ্র্যপীড়িত হতে পারে, কিন্তু তার নৈতিকতাবোধ দরিদ্র হবে কেন? মানুষকে সচেতন করে তুলতে না পারলে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর দায়ভার আমাদের বহন করে যেতে হবে।

দুই· এখনো দেশের অর্ধেকেরও বেশি মানুষ নিরক্ষর। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে সাক্ষর করে তোলা একটি বিপুল আয়তনের কাজ। এই শ্রমসাধ্য কাজটি সম্পন্ন না হলে মাতৃভাষা দিবসই আমাদের কাছে ম্স্নান হয়ে যাবে। প্রসঙ্গক্রমে এখানে বলতে চাই যে, এই বিপুল জনগোষ্ঠী শুধু অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন হলেই হবে না। তাদেরকে অসাম্প্রদায়িক, প্রগতিশীল, মুক্তচেতনার আলোকিত মানুষ হতে হবে। এখনো এ দেশে এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে, যেখানে ধর্মান্ধ, পশ্চাৎপদ, কুসংস্কারাচ্ছন্ন গোঁড়ামি শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। যতদিন এই শিক্ষা ব্যবস্থা থাকতে ততদিন একুশের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বাংলাদেশের মানুষকে মৌলবাদের হাত থেকে রক্ষা করতে পারবে না। এখনো সাধারণ স্কুলগুলোতে এমন শিক্ষক আছেন, যারা একুশে ফেব্রুয়ারিকে ‘বেদাত দিবস’ ঘোষণা করতে ভীত হত না। প্রধান শিক্ষকের নির্দেশ অমান্য করে ছাত্র-ছাত্রীরা একুশে ফেব্রুয়ারিতে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করায় স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছাত্র-ছাত্রী ও তাদের পরিবারকে পুলিশ দিয়ে হয়রানি করার হুমকি দেয়। একুশে ফেব্রুয়ারির আগে চারদিন স্কুল ছুটি দিয়ে দেয়। বলে, শহীদ মিনারে ফুল দেয়া পূজা করার শামিল এবং এই দিবসকে ‘বেদাত দিবস’ ঘোষণা দিয়ে ফতোয়া জারি করে। আমরা ধর্মীয় শিক্ষার বিরুদ্ধে নই। যিনি যে ধর্মাবলম্বী, তাকে সে ধর্ম সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের সুযোগ দিতেই হবে। প্রাথমিক পর্যায় থেকে প্রাকবিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত যেমন বাধ্যতামূলকভাবে ভাষা শেখানো হয়, একটি পর্যায় পর্যন্ত গণিত শেখানো হয়, তেমনি বিজ্ঞান ও একইসঙ্গে ধর্মশিক্ষাও সর্বজনীনভাবে প্রবর্তন করা উচিত। এতে একজন মানুষের শিক্ষিত হয়ে ওঠার মৌল ভিত্তি তৈরি হবে। এটি যদি করা হয় তাহলে ভিন্নভাবে মাদ্রাসা শিক্ষার ধারা প্রচলিত রাখার আর কোনো প্রয়োজন কিংবা যুক্তি থাকে না। উচ্চতর পর্যায়ে ধর্ম শিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় বিভাগ খেলা যেতে পারে, যেমন আছে হার্ভার্ডের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ে ঊধশধভর্ধহ ওডদমমফ।

তিন· এখনো উচ্চ পর্যায়ের শিক্ষাস্তরে বাংলায় পাঠ্যপুস্তক রচিত হয়নি। বিশেষ করে মেডিক্যাল, ইঞ্জিনিয়ারিং ক্ষেত্রে আমাদের ব্যর্থতা সীমাহীন। জাপান থেকে দুটো উদাহরণ দিতে চাই। এক· জাপানিদের শিক্ষার মাধ্যম মাতৃভাষা। পত্রিকা থেকে জেনেছি বিদেশে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বড় কিছু আবিষ্কৃত হলে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকগণ বিদেশে গিয়ে সে সম্পর্কে জেনে আসেন এবং নিজ দেশে নিজের মাতৃভাষায় ছাত্র-ছাত্রীদের সে বিষয়টি শেখান। দুই· নাইজেরিয়ার প্রখ্যাত লেখক চিনু আচিবে ১৯৮১ সালে টোকিওতে গিয়েছিলেন টোকিওর ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্বসভ্যতা বিষয়ক এক সম্মেলনে। সেখানে পরিচয় হয় অধ্যাপক ফিলিচিরো তোবার সঙ্গে। তোবা তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা প্রসঙ্গে চিনু আচিবিকে বলেছিলেন, ১৮৮০ সালের প্রথমদিকে আমার দাতা টোকিও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করেন। তিনি খাতায় যে নোট নিয়েছিলেন তার ভাষা ছিলো ইংরেজি। আমার বাবা ১৯২০ সালে ঐ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করেন। তার নোট খাতায় অর্ধেক ইংরেজি, আর অর্ধেক জাপানিতে লেখা ছিলো। আর আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ে যে নোট নিয়েছিলাম তার সবটাই জাপানি ভাষায়। নিজের ভাষায় পাশ্চাত্য সভ্যতাকে বোঝার জন্য আমাদের তিন পুরুষ পার করতে হয়েছে। চিনু আচিবির মাধ্যমে যে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি আমাদের জানা হলো তা একটি শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত। জাপানিরা যুদ্ধ বিধ্বস্ত জাতি হয়েও জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে দ্রুত নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করে নিয়েছে। আর আমরা যুদ্ধ বিজয়ী জাতি। এখন পর্যন্ত শিক্ষার মাধ্যমে মাতৃভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারিনি।

চার· গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে বলা হয়েছেঃ

‘‘১৭। রাষ্ট্র-

(ক) একই পদ্ধতির গণমুখী ও সর্বজনীন শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য এবং আইনের দ্বারা নির্ধারিত স্তর পর্যন্ত সকল বালক-বালিকাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষাদানের জন্য;

(খ) সমাজের প্রয়োজনের সহিত শিক্ষাকে সঙ্গতিপূর্ণ করিবার জন্য এবং সেই প্রয়োজন সিদ্ধ করিবার উদ্দেশ্যে যথাযথ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও সদিচ্ছাপ্রণোদিত নাগরিক সৃষ্টির জন্য;

(গ) আইনের দ্বারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিরক্ষতা দূর করিবার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।’’

সংবিধানের এই অঙ্গীকারের পরও আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা ত্রম্নটিমুক্ত নয়। মাদ্রাসা, কিন্ডার গার্টেন এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়- এই তিনটি মাধ্যমে আমাদের শিশুরা শিক্ষালাভের সূচনা ঘটায়। এক্ষেত্রে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় সমতা নেই এবং আইনের দ্বারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিরক্ষরতা দূর করার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে কিনা, তা আমার জানা নেই।

পাঁচ· দেশের ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর মাতৃভাষাকে যথাযথ মর্যাদা দিতে হবে। এ ব্যাপারে বাংলা একাডেমী দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছে। শান্তিচুক্তি সম্পাদিত হবার পর পার্বত্য চট্টগ্রামে পরিস্থিতি যখন শান্ত হয়েছে, তখনই বাংলা একাডেমী পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ভাষা নিয়ে একটি অভিধান সংকলন ও প্রকাশের কাজ হাতে নিয়েছে। এভাবে আরো অনেক কাজ করার সুযোগ তৈরি করতে হবে।

ছয়· দেশের সাহিত্যকে বিদেশের মানুষের হাতে পৌঁছে দিতে পারলে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস সত্যিকার অর্থে অর্থময় হবে। এ কাজটি করতে না পারলে আমাদের একুশে ফেব্রুয়ারির মর্যাদা বাইরের মানুষের কাছে অজ্ঞাতই থাকবে। আমাদের গভীর বিশ্বাস ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ পৃথিবীর মানুষকে পরস্পরকে জানার আগ্রহে উদ্বুদ্ধ করবে। প্রত্যেকেই তার, কোনো কোনো লেখক ছাড়া মাতৃভাষায় সাহিত্য চর্চা করে। এই সাহিত্য যদি অনুবাদের মাধ্যমে প্রতিটি দেশে পঠিত হয় তবে বিশ্বায়নের ধারণা একতরফা হবে না, আমরাও বিশ্বকে কিছু দিতে পারবো।

সাত· বাংলাদেশের প্রতিটি জেলার আঞ্চলিক ভাষাকে সমুন্নত করার একটি বড় দায়িত্ব এখন সবার উপর বর্তেছে। এখন থেকে প্রায় ত্রিশ বছরের বেশি সময় আগে বাংলা একাডেমী ‘আঞ্চলিক ভাষার অভিধান’ সংকলন ও প্রকাশ করেছিলো। এই অভিধানটি পরবর্তী সময়ে পরিমার্জিত ও সংশোধিত হয়নি। এই ভাষা-সম্পদ রক্ষা করা এবং শিল্পের নানা শাখায় এর চর্চা বৃদ্ধি করা সবার দায়িত্ব।

১৯৫২-র ২১ ফেব্রুয়ারিতে আমরা বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার জন্য সংগ্রাম করেছিলাম ও জীবন দিয়েছিলাম। এ পরিপ্রেক্ষিতে দুইটি প্রশ্ন করতে চাই। এক· মাতৃভাষাকে সমুন্নত করার ও যথাযোগ্য মর্যাদা দেয়ার একমাত্র উপায় কি তাকে রাষ্ট্রভাষায় পরিণত করা? আমাদের মাতৃভাষাকে এমনি করে সমুন্নত করার জন্য আমরা ১৯৫২-র রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন করেছিলাম, এমনটি আমার মনে হয় না। আমরা এ আন্দোলন করেছিলাম গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য এবং আমরা যাতে আর্থ-সামাজিকভাবে ও রাষ্ট্রীয়ভাবে কার্যত সংখ্যালঘুতে পরিণত না হই, তা নিশ্চিত করার জন্য। দুই· প্রতিটি মাতৃভাষা রাষ্ট্রভাষা হবে না কেন? গণতান্ত্রিক অধিকার কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের নয়, প্রত্যেক মানুষের। সুতরাং আমরা যদি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি এবং আসলেই চাই প্রতিটি মাতৃভাষার উন্নতি হোক, তাহলে প্রতিটি মাতৃভাষাকেই রাষ্ট্রভাষা করা প্রয়োজন। ভাষায় ভাষায় কোনো মর্যাদাগত পার্থক্য থাকতে পারে না, থাকা উচিত নয়। প্রতিটি ভাষা একই রকম যোগ্য নয়, একথা মনে রেখেও ভাষায় ভাষায় বিভেদ বিলোপের কথা বলতে চাই। কোনো ভাষা এ মুহূর্তে যদি যোগ্য না হয়, তাকে যোগ্য করে তুলতে হবে এবং সে দায়িত্ব কেবল সে ভাষা যারা ব্যবহার করে তাদের নয়, আমাদের সকলের। এমনি পরিবেশ যদি সৃষ্টি করা যায়, কেবল তাহলেই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আমাদের জীবনে যথাযোগ্য পরিপ্রেক্ষিত লাভ করবে ও মূল্য পাবে বলে আমার ধারণা।

**************************
সেলিনা হোসেন
দৈনিক ইত্তেফাক, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০০৮