National Events - http://events.amardesh.com
১/১১ এক বছরঃ সময়ের প্রতিবিম্ব
http://events.amardesh.com/articles/83/1/aaa-aa-aaaa-aaaaa-aaaaaaaaaa/Page1.html
Article Poster
 
By Article Poster
Published on 01/10/2008
 
ট্র্যাক মেরামতেই বছর কেটে গেল বর্তমানে ১/১১ শীর্ষক একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা, লেখালেখি, টিভি টক-শো, সভা-সেমিনার, এমনকি এক ধরনের প্রচার-প্রচারণা চলছে। সেই সকল কার্যক্রম পর্যালোচনা করে সর্বপ্রথমে ভাবছি, বর্তমানে যে সরকারটি ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত আছে তাদের স্বরূপ কী-এই প্রশ্নটির মীমাংসার প্রয়োজন আছে কি না। এমনকি ‘কার্যকাল’ সংজ্ঞাটিরও বিশ্লেষণ প্রয়োজন। অন্যান্য অতীত সরকারের, একমাত্র সামরিক শাসক ব্যতীত, সবারই কার্যকাল নির্দিষ্ট ছিল। এখন যারা ক্ষমতায় আছেন তাদের কার্যকাল কবে শেষ হবে তা নিয়ে আপাতত কোনো ভবিষ্যদ্বাণী করব না।

১/১১ এক বছরঃ সময়ের প্রতিবিম্ব

ট্র্যাক মেরামতেই বছর কেটে গেল
বর্তমানে ১/১১ শীর্ষক একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা, লেখালেখি, টিভি টক-শো, সভা-সেমিনার, এমনকি এক ধরনের প্রচার-প্রচারণা চলছে। সেই সকল কার্যক্রম পর্যালোচনা করে সর্বপ্রথমে ভাবছি, বর্তমানে যে সরকারটি ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত আছে তাদের স্বরূপ কী-এই প্রশ্নটির মীমাংসার প্রয়োজন আছে কি না। এমনকি ‘কার্যকাল’ সংজ্ঞাটিরও বিশ্লেষণ প্রয়োজন। অন্যান্য অতীত সরকারের, একমাত্র সামরিক শাসক ব্যতীত, সবারই কার্যকাল নির্দিষ্ট ছিল। এখন যারা ক্ষমতায় আছেন তাদের কার্যকাল কবে শেষ হবে তা নিয়ে আপাতত কোনো ভবিষ্যদ্বাণী করব না। বরং যেভাবে যে পরিস্থিতিতে আগে-পরে একে একে অনেকে বিদায় নিচ্ছেন, তখন শেষ পর্যন্ত খোলনলচে পুরোপুরি বদলে যাওয়ার বিষয়টি সব ভাবনা এলোমেলো করে দিচ্ছে। এখন যুক্তিসংগত প্রশ্নটি হচ্ছে, বর্তমান সরকারের কার্যকাল শেষ নয়, শুরু হয়েছিল কবে সেটিই সঠিকভাবে বলতে হবে, তারপরই সালতামামি। এই নিয়ে মনে দ্বন্দ্ব দেখা দেওয়ার কারণ ‘সরকারের বর্ষপূর্তি’ নিয়ে মিডিয়ায় একটি প্রচারাভিযান চলছে। এতদসম্পর্কীয় যে পরিকল্পনাভিত্তিক প্রচারপত্র অথবা তথ্যচিত্র তৈরি করা হয়েছে তাতে ১/১১ তারিখটি উল্লিখিত হচ্ছে।


প্রকৃতপক্ষে বর্তমান সরকারটি যদি সাংবিধানিকভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বলে উল্লিখিত হয় তবে তার আয়ুষ্কাল ২০০৬ সালের ২৯ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে বলতে হবে। কারণ, পূর্ববর্তী সরকারের পদত্যাগের পরই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কার্যকালের সূচনা। বর্তমান তত্ত্বাবধায়কদের কার্যকাল ধারাবাহিকতা মাত্র। সরকারের অবয়বের পরিবর্তন ঘটেছে ১/১১ তারিখে, নতুন সরকার নয়, ব্যক্তিবর্গ ক্ষমতায় এসেছেন। কীভাবে এসেছেন এবং কেন আসতে হয়েছে সেই আলোচনাও এখন গৌণ। এখন বরং কেউ কেউ কেন এসেছিলেন এবং এসে কী করলেন, অতঃপর চলেই-বা গেলেন কেন ও কীভাবে তা নিয়ে জোরেশোরে আলোচনা চলছে।


পূর্ববর্তী রাজনৈতিক সরকারের পর সংবিধানের ২ক পরিচ্ছেদের চারটি অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়েছিল তা আপন লক্ষ্যে পৌঁছানো কর্মসূচি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হওয়ার কারণে একটি মধ্যবর্তী অথবা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে যেভাবেই হোক দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিতে হয়েছে অথবা অধিষ্ঠিত করা হয়েছে। কার্যকাল গণনায় সংবিধানের ২ক পরিচ্ছেদে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের জন্য রাষ্ট্রপতিকে যে ছয়টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তা সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়নি। তার মানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনে গোড়ায় গলদ ছিল। সেই গলদ তথা সাংবিধানিক বিধিবিধান ও বাধ্যবাধকতা সহজেই উপেক্ষা করতে হয়েছে। কারণ, দেশের মানুষ তখনকার উদ্ভূত অরাজক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য একটি উপায় খুঁজছিল। সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় দেশকে বিশৃঙ্খল ও অরাজক পরিস্থিতি থেকে উদ্ধারের ব্যগ্রতায় একটি বিশেষ উদ্যোগের ফলেই ড· ফখরুদ্দীন আহমদের সরকার এসে হাল ধরতে পেরেছিল। জনগণের ইচ্ছাপূরণের আকাঙ্ক্ষা ও বাঁচার আকুতিই প্রাধান্য পেয়েছিল, তাই সংবিধান পুস্তকটি শিকেয় তুলে রাখা হয়েছিল। বস্তুত সংবিধানের প্রথম ভাগের ৭(১) ( জনগণই প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক) সংবিধানের অন্যান্য বিধানের ঊর্ধ্বে স্থান পেয়েছিল। যতদূর মনে পড়ে, আমার এই পুরো বক্তব্যটিকে সেনাবাহিনী প্রধান মঈন উ আহমদ তখন অতি সহজ ও স্বচ্ছভাবে ব্যাখ্যা করে বলেছিলেন, ‘ট্রেনটি ট্র্যাকের বাইরে চলে গিয়েছিল, জনগণের পরিপূর্ণ সমর্থন নিয়ে বিশেষ ব্যবস্থায় সেটিকে আবার ট্র্যাকে বসাতে হচ্ছে।’ তাই বর্তমানে সরকারের এক বছর পূর্তির কথা বলে নতুন অথবা সঠিক ট্র্যাকে তথা লাইনে বসিয়ে যাত্রা শুরুর দিনটি থেকেই সরকারের কার্যকাল গণনা করা হচ্ছে। আগামী কাল তারই বর্ষপূর্তি। তারিখ ও সময় নিয়ে আমার দীর্ঘ ব্যাখ্যাটি দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি ব্যতিক্রমী পদক্ষেপেরও উল্লেখ করতে হয়েছে। তা হচ্ছে, জরুরি অবস্থার মাঝে দীর্ঘ সময় সরকার বা রাষ্ট্রব্যবস্থা পরিচালনা। বিষয়টি বর্ষগণনায় তথা ট্র্যাকে প্রত্যাবর্তনের আলোচনায় গুরুত্ব পেতে হবে।


আলোচনাটি শুরু করার প্রাক্কালে আমার মনে যে একটি অদ্ভূত বা অভূতপূর্ব ভাবনা উদয় হয়েছিল তা হচ্ছে, এই দেশে ১৯৭২ সালের পর এত প্রত্যাশা, এত অপরিসীম সমর্থন নিয়ে এতখানি ঐকমত্যের সরকার কোনোকালে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এমনকি স্বাধীনতাযুদ্ধ জয়ের পরবর্তী সরকারটিরও একটি প্রচ্ছন্ন প্রতিপক্ষ ছিল যারা স্বাধীনতাযুদ্ধ ও মুক্তির সংগ্রামকে সমর্থন করেনি। এখন হিসাব করতে হচ্ছে, স্বাধীনতা-পরবর্তী বঙ্গবন্ধু সরকার যেমন স্বাধীন দেশের অসহিষ্ণু জনগণের যে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি বলা হয়েছিল, বর্তমান সরকার কি তা পারবে অথবা পূরণের লক্ষ্যে কতখানি অগ্রসর হয়েছে।


উল্লিখিত দুটি সরকারের রূপ, চরিত্র ও ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার দুটি পটভূমি একটুখানি তুলনা করা যেতে পারে। বঙ্গবন্ধু সরকার পেয়েছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত পাকিস্তানি শোষকদের নিঃশেষ ও নিঃস্ব করে যাওয়া একটি দেশ। বর্তমান সরকারও পেয়েছে দুর্নীতি, লুটপাট, অপশাসন, দুঃশাসন, স্বজনপ্রীতি ও অরাজকতায় বিশৃঙ্খল একটি দেশ। বঙ্গবন্ধুর সরকার সাড়ে তিন বছরে দেশ পুনর্গঠনের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি। তবে তাকে একাই একটি নতুন ট্র্যাকের বা লাইনের সন্ধান করতে হয়েছে। তাই সে সন্ধানে সময় লেগেছে এবং সব সামলিয়ে যাত্রাপথে অগ্রসর হওয়ার পথে তাকে থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই শেষ পর্যন্ত নতুন ট্র্যাকের ওপর চড়ে সে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি।


বর্তমান সরকার নতুন ট্র্যাক তৈরি নয়, পুরোনো ট্র্যাকচ্যুত ট্রেনটিকে পূর্বনির্দিষ্ট লাইনে বসিয়ে যাত্রা শুরু করতে চেয়েছিল। এই কাজে তারা একটি শক্তিশালী মহলের সহায়তা পেল। তারপরও ভাঙন ও এবড়ো-খেবড়ো ট্র্যাকে তুলতেই হিমশিম খেয়ে গেল এবং মেরামত করতেই প্রায় এক বছর সময় খরচ করে ফেলেছে। এই সময়কে অপচয় বলব, নাকি পরিকল্পনাহীনভাবে ট্র্যাকে তোলার জন্য ব্যবহৃত ক্রেনটিকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারেনি বলব, নাকি বলব ক্রেনটি সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য দায়িত্ববান কৌশলী মনোনয়ন করতে পারেনি। অথবা তাড়াহুড়ো করে ক্রেনটি কাজে লাগাতে গিয়ে কতিপয় আনাড়ি অপারেটরকে দায়িত্ব দিয়েছিল। সরকারে সর্বশেষ ভাঙন সত্যটিকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
পুরোনো প্রসঙ্গে ফেরা যাক। ট্র্যাকে বসানো গাড়িটির গন্তব্যের স্টেশন ছিল নির্বাচন। কিন্তু ট্র্যাকে তোলার পরই দেখা গেল লাইন এবড়ো-খেবড়ো হয়ে রয়েছে; যে সব পুলের ওপর দিয়ে যাবে তার অধিকাংশই ভাঙা, লাইনের নিচের স্লিপার চুরি হয়ে গেছে। (কথাগুলো পূর্ববর্তী সরকারের কার্যক্রম ব্যাখ্যায় রূপক অর্থে বললাম।) তদুপরি একটি ক্ষমতাসীন অথবা সদ্য ক্ষমতা ত্যাগকরা সরকার সেই যাত্রাপথের ট্র্যাকটি ভিন্নপথে নিয়ে যেতে চেয়েছিল, যাকে বলে আসল পথ ছেড়ে ডাইভার্সন রাস্তা তৈরি করল। এই ডাইভার্সন বা বিকল্প রাস্তা থেকে আসল রাস্তায় নিয়ে আসার দায়িত্ব নিল নতুন সরকার। তখন দেখল আসল রাস্তাটি একেবারে বিধ্বস্ত করে ফেলা হয়েছে। (১) মূল রাস্তার তদারকিতে যাঁরা ছিলেন সেই নির্বাচন কমিশনে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ করতে হয়েছে। সেই কমিশনকে কার্যভার হাতে নিয়ে নতুন করে সব গোছাতে হচ্ছে। কীভাবে গোছাবেন তা নির্ধারণ করতে নানা ধরনের চিন্তাভাবনায় এক বছর চলে গেল। তাঁরা ‘রোডম্যাপ’ বলে নতুন কর্মসূচি হাতে নিয়ে নানা সমস্যায় পড়েছেন। রোডম্যাপ নির্ধারণ করার পূর্ণ স্বাধীনতা তাঁদের ছিল না, এখনো অর্থাৎ এক বছর পরেও পুরোপুরি নেই। তারপরেও সরকারের নয়, একটি সহায়ক শক্তির সহায়তায় একটি ম্যাপ অনুসরণে দ্রুত এগিয়ে চলেছেন। (২) তারপর সমস্যা দেখা দিল যখন দেখা গেল ট্র্যাকটি একেবারে জবরদখল হয়ে রয়েছে। অবৈধ দখলদার, দুর্নীতিবাজ আর ক্ষমতাধরদের সরিয়ে স্লিপারগুলো পুনরুদ্ধার না করে, আঁকাবাঁকা আর ভাঙা রেলগুলো মেরামত না করে ট্র্যাকটি পুনঃস্থাপিত করা যাচ্ছে না। দেখা যাচ্ছে, এই কাজটি সরকারের সঠিক লক্ষ্যে অর্থাৎ নির্বাচন স্টেশনে পৌঁছানোর পথ বিলম্বিত করছে। একটি বছরেও সকল বাধা পুরোপুরি অপসারণ করা গেল না। তদুপরি এই কাজ করতে গিয়ে এই সরকারের মাথার ওপর সূচিবহির্ভূত অনেক কাজের বোঝা চেপে বসেছে। তাতে আবার ট্র্যাক মেরামত নিয়ে ভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিল, যাত্রা বিলম্বিত হলো।


অতঃপর দুর্ভাগ্যের আকারে এল একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ। নতুন সরকার ১/১১তে ক্ষমতায় বসে যে সব হিসাব-নিকাশ করেছিল প্রকৃতি তা ওলট-পালট করে দিয়েছে। অতীতের কোনো সরকারকে এক বছরে এত প্রতিকূল প্রাকৃতিক পরিবেশ অথবা প্রকৃতির রোষের মোকাবিলা করতে হয়েছে, এমনটি ্নরণ করতে পারছি না। এতসব মোকাবিলায় কারও কোনো অতীত অভিজ্ঞতাও ছিল না। তারপরও সব প্রাকৃতিক দুর্যোগও তারা কাটিয়ে উঠল। এ জন্য অবশ্য কৃতিত্বটি সরকারের চেয়ে তাদের সহায়ক শক্তিরই, সোজা কথায় মাঠ পর্যায়ে সেনা সদস্যদেরই অধিকতর প্রাপ্য। জনগণ এ জন্য স্যুট-পরা টেলিভিশনে দেখা উপদেষ্টাদের চেয়ে হাঁটুর ওপর প্যান্ট গোছানো সহায়ক শক্তিধারীদেরই গুণগান করেছে। সর্বশেষ বিপর্যয়কে অর্থনৈতিক ভাষায় বলা যায় দৈনন্দিন জীবন যাপনে ‘ভোগান্তি’। এখানে আবার সেই সহায়ক শক্তির সাহায্যের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিল। এসবই হচ্ছে সরকারের প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে দুর্ভাগ্যের বর্ণনা। অথবা ট্র্যাক মেরামতে বিলম্বের কারণটির কতিপয় ব্যাখ্যা। এই সরকারের বড় সৌভাগ্য হচ্ছে সব প্রতিকূল অবস্থায়ই তারা ট্র্যাক মেরামতের কাজটি চালিয়ে যেতে পারছে, কারণ একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী তাদের প্রয়োজনীয় শক্তি ও সাহস জুগিয়েছে। ট্র্যাকচ্যুত গাড়ি লাইনে তুলতে গিয়ে বারবার হোঁচট খাওয়ার পর সুরক্ষা দিয়েছে।


মধ্যিখানে সরকারের দু-একটি অনভিপ্রেত পদক্ষেপ (যেমন বিশ্ববিদ্যালয় পরিস্থিতি নিয়ে তালগোল পাকানো অথবা কারও কারও মতে একধরনের একগুঁয়েমি, রাজনীতির অঙ্গনে নানা ধরনের অর্থহীন কলাকৌশল প্রয়োগের কারণে চাপা অসন্তোষ থাকলেও) এবং ট্র্যাক মেরামত ও নির্বাচনী রোডম্যাপ নির্ধারণে ব্যাখ্যাহীন বিলম্ব সত্ত্বেও এখনো জনগণের অসীম ধৈর্য ও সহনশীলতার বিচ্যুতি ঘটেনি। এই দেশের জনগণের এ ধরনের সহনশীলতা কোনো রাজনৈতিক সরকারের আমলে ছিল অপ্রত্যাশিত। কেউ-কেউ হয়তো বলবেন ‘জরুরি আইনের’ বর্মের আড়ালে এই সরকার ‘রেহাই’ পেয়ে যাচ্ছে। আমাদের ইতিহাস বলে, জনমনে অসন্তোষ সঞ্চিত হলে তার বিস্কোরণ জরুরি অবস্থা বা সামরিক আইন জাতীয় হাজারো কঠোর ব্যবস্থা নিয়েও মোকাবিলা করা যায় না। আমার মতে, জনগণ যে এখনো জনজীবনে শত বিপর্যয় সত্ত্বেও অসীম ধৈর্যের পরিচয় দিচ্ছে, তার কারণ নির্বাচনী গাড়িটি লাইন ধরে সঠিক সময়ে চলবে বলে তারা আশাবাদী। তার প্রকৃত কারণ এই সরকারের সহায়ক শক্তির ওপর তাদের আস্থা অটুট রয়েছে। বন্যা-পরবর্তী লণ্ডভণ্ড অবস্থা, সিডরের পর উঠে দাঁড়ানো, খাদ্য সংকট মোকাবিলায় সরকারের সহায়ক শক্তির অসামান্য দক্ষতার পরিচয় পেয়েই তারা এখনো আশাবাদী রয়েছে, অসহিষ্ণু হয়নি, নতুন ১/১১ জ্ন দেয়নি। কিন্তু জনগণের এই সহনশীলতা ও ধৈর্য কি আগামী পুরো এক বছর অপরিসীম থাকবে?


পুনশ্চঃ সংবাদপত্র মুদ্রণ ব্যবস্থার কতিপয় স্বাভাবিক নিয়মের কারণে উপসম্পাদকীয়টি দুদিন আগেই লিখতে হয়েছে। তারপরও চার অথবা অপর হিসাবে পাঁচজনের পদত্যাগ, মতান্তরে পদচ্যুতির বিষয়টি আলোচনায় পুরোপুরি অন্তর্ভুক্ত না করলেও আপাতত বিষয়টি শুধু ছুঁয়ে যেতে হয়েছে। ফলে কোনো পাঠক যদি মনে করেন বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে, তাঁদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাবনার খোরাক দিচ্ছি। এক বছরে এই সরকার সর্বক্ষেত্রে সফল হয়েছে কি না তা নিয়ে মতদ্বৈধ বা মতান্তর থাকলেও পাঁচজন উপদেষ্টা ট্র্যাকটির যেসব অংশের মেরামতের দায়িত্বে ছিলেন তাঁদের সেসব ক্ষেত্রে ব্যর্থতার দায়িত্ব যে সরকারের ওপরই বর্তিয়েছে, এই সত্যটি অস্বীকার করি কী করে। এখন আশা করি সংশ্লিষ্ট মহল আগামী এক বছরে বা কয়েক মাসে ট্র্যাক মেরামত সম্পূর্ণ করার জন্য উপযুক্ত লোক বাছাইয়ে আর ভুল করবে না।


**************************
এবিএম মূসাঃ সাংবাদিক।
দৈনিক প্রথম আলো, ১০ জানুয়ারী ২০০৮