২০০৭ সালের ওয়ার্ল্ড কাপে বাংলাদেশ দল সারা বিশ্বকে কাপিয়ে তুলতে পেরেছেক্রিকেট ইতিহাস ২০০৭ সালের মতো এতো ঘটনাবহুল ছিল কি না সে প্রশ্নে এলে প্রাচীন স্মৃতি নিয়ে ঘাটাঘাটি করা ছাড়া বের করা সম্ভব নয়। তবে ২০০৭ সালটি যে ক্রিকেটের জন্য স্মরণকালের সবচেয়ে ঘটনাবহুল তা বলাই বাহুল্য। কি না হয়েছে এ বছর। ওয়ার্ল্ড কাপ, অ্যাশেজে অস্ট্রেলিয়ার ইংল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ, কোচ-ক্যাপ্টেন রদবদলের হিড়িক, ফাস্ট ফুড ক্রিকেট খ্যাত টোয়েন্টি২০ ক্রিকেটের ওয়ার্ল্ড কাপ, ২১ বছর পর ইংল্যান্ডের মাটিতে ইনডিয়ার সিরিজ জয়, দুরন্ত অস্ট্রেলিয়ার আরো দুর্বার হওয়া শতাব্দীর অন্যতম সেরা ক্রিকেটে নিজেদের বিদায়, মুরালি কীর্তি, দুটি ওয়ার্ল্ড কাপেই বাংলাদেশি টাইগারদের গর্জন আরো কতো কি? বছরটা যেন ছিল ক্রিকেটে নতুন নতুন ঘটনা জন্ম দেয়ার বছর। তবে এ বছরের সবচেয়ে আলোচিত এবং ট্র্যাজিক ঘটনা হলো পাকিস্তানের কোচ বব উলমারের মৃত্যু, যা শুরুতে আলোচনায় ছিল হত্যাকান্ড হিসেবে।

অসাধারণ অস্ট্রেলিয়া
অস্ট্রেলিয়া যে অসাধারণ সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে ২০০৭ সালটা ছিল তাদের জন্য এর চেয়েও বেশি কিছু। তারা বছরটা শুরু করেছিল অ্যাশেজে ইংল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করে। আগের অ্যাশেজের প্রতিশোধ এতো চরম হতে পারে তা ইংল্যান্ড বুঝলো হোয়াইটওয়াশ হয়েই। সেই ধারাবাহিকতাই বজায় রেখেছে অস্ট্রেলিয়া। একনাগাড়ে ১৪টি ম্যাচে অপরাজিত আছে এখন পর্যন্ত। এরপর এলো ওয়ার্ল্ড কাপ। কিন্তু সেখানে ম্যাথু হেডেন এবং ম্যাকগ্রার ক্যারিসমায় তৃতীয়বারের মতো জিতে নেয় ওয়ার্ল্ড কাপ ফাইনালে গিলক্রিস্টের অসাধারণ ১৪৯ মাহেলা জয়াবর্ধনকে ওয়ার্ল্ড কাপ স্পর্শ থেকে বিরত রেখে। ম্যাকগ্রা জীবনের শেষ টুর্নামেন্টেও হন ম্যান অফ দি টুর্নামেন্ট।

গত সেপ্টেম্বরে টোয়েন্টি২০ ক্রিকেট নামের বিস্ময় বালকের চূড়ান্ত বিকাশের জন্য যে ওয়ার্ল্ড কাপের অভিষেক ঘটানো হয়েছিল সেখানে তারা ফাইনাল খেলতে পারেনি। এর আগেই সেমিফাইনালে ইনডিয়ার কাছে হেরে তারা বিদায় নেয়। এটাই তাদের এ বছর সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। কিন্তু তাতে কি? এরপর যে কয়টি সিরিজ খেলেছে সবটাতেই জয় পেয়েছে এবং এ বছরের সব টেস্টেই তারা জয়ী দল।


ঘটনাবহুল ওয়ার্ল্ড কাপ ২০০৭
ওয়েস্ট ইন্ডিজে সমস্যা অনেক। এতো সমস্যার মধ্যেও সে দেশের মানুষ একটি জিনিস পেলে সানন্দে গ্রহণ করে এবং ধ্যান-জ্ঞান বলতে সেটাকেই মনে করে। হ্যা, ক্রিকেটের কথাই বলছি। লারা-লয়েডদের দেশেই বসেছিল ক্রিকেটের সবচেয়ে জাকজমকপূর্ণ আসর ক্রিকেট ওয়ার্ল্ড কাপ। কিন্তু সবচেয়ে দীর্ঘ মেয়াদি এ ওয়ার্ল্ড কাপ অনেক কিছুর সাড়্গী হয়ে থাকলেও উপভোগ্যের দৃষ্টিকোণে ছিল ফ্লপ। দর্শকশূন্যতা ছিল প্রখর, তারপর এটাই বোধহয় সবচেয়ে ঘটনাবহুল ওয়ার্ল্ড কাপ। প্রথম রাউন্ডেই বিদায় নিল ক্রিকেট বাণিজ্য প্রসারে যে দেশটি ছিল আইসিসির টার্গেট সেই ইনডিয়া এবং যে দেশে ক্রিকেট মানেই জীবন, ধ্যান-জ্ঞান সেই পাকিস্তôান। আর উপমহাদেশের দুই শক্তির বিদায়ে ওয়ার্ল্ড কাপটাও হয়ে যায় অনেকটাই আকর্ষণহীন।


এতো কিছুর মাঝেও ব্যক্তিগত কিছু রেকর্ড হয়েছে, যা না বললেই নয়। লাসিথ মালিঙ্গার ৪ বলে ৪ উইকেট কিংবা হার্সেল গিবসের ৬ বলে ৬ ছক্কা যা কিনা ওয়ার্ল্ড কাপে বিরল। ম্যাকগ্রা ওয়াসিম আকরামের কাছ থেকে ওয়ার্ল্ড কাপে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের রেকর্ড ছিনিয়ে নেন, প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়া হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের বিরল স্বাদ পায়। আয়ারল্যান্ড ও বাংলাদেশ সুপার এইটে খেলে বিস্ময়ের জন্ম দেয়। এ ওয়ার্ল্ড কাপের মাধ্যমেই বিদায় নেন রেকর্ডের বরপুত্র ব্রায়ান চার্লস লারা, ইনজামাম-উল হক, রাসেল আর্নল্ড, গেস্নন ম্যাকগ্রাসহ আরো একজন। তবে তিনি শুধু খেলার মাঠ থেকেই নয় বরং চিরবিদায় নেন। পাকিস্তানের ক্রিকেট কোচ বব উলমারের মৃত্যু। এ ওয়ার্ল্ড কাপটি আর কিছুর জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকুক বা না থাকুক বব উলমারের মৃত্যু রহস্যের কারণে সবারই এটা মনে থাকবে।


উলমার রহস্য
মার্চ মাসের ১৩ তারিখ থেকেই আসলে ঘটনা প্রবাহ শুরু। কারণ এ তারিখেই ওয়ার্ল্ড কাপ থেকে পাকিস্তানের বিদায় প্রক্রিয়া শুরু হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হেরে। এরপর ১৭ মার্চ, এ ম্যাচে উলমারের শিষ্যদের ম্যাচ বের করতেই হবে যদি সুপার এইটে খেলতে হয়। প্রতিপক্ষ আয়ারল্যান্ড। পরাজিত হয় তাদের সঙ্গে। পাকিস্তান বিদায় নেয় ওয়ার্ল্ড কাপ থেকে। সে রাতেই মারা যান বব উলমার। এরপর যেন এটা রূপকথার গল্পে পরিণত হয়। জ্যামাইকান পুলিশ এটাকে হত্যাকান্ড হিসেবে আখ্যায়িত করে। শুরু হয় হত্যা রহস্য উদঘাটনের জোর প্রচেষ্টা। ইন্টারপোল, এফবিআই আরো কতো কি? এক পর্যায়ে পুরো ওয়ার্ল্ড কাপটাই যেন এক বিচিত্র বিপদে পরিণত হয়। এটাই স্বাভাবিক যে, মানুষটি ক্রিকেটকেই জীবন হিসেবে বেছে নিয়েছেন তার মৃত্যুও যে ক্রিকেটকেই বেছে নেবে সে কথা জানতোই বা কে। অবশেষে বছরের শেষে এসে জানা গেল এটা হত্যাকান্ড নয়। এটা মৃত্যু।

হত্যাই হোক কিংবা মৃত্যুই হোক উলমারের এ চলে যাওয়ায় ক্রিকেট বিশ্ব যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।


কোচ উপাখ্যান
বছরটা জুড়ে ছিল নতুন কোচ নিয়োগ, কোচের পদত্যাগ, মেয়াদ শেষ আবার কারো কারো জন্য নাটকের অবতারণা। এ নাটকের মূলে ছিলেন ইনডিয়ান ক্রিকেট কর্তারা। এপ্রিলে ওয়ার্ল্ড কাপ ব্যর্থতার জন্য ইনডিয়ার কোচ হিসেবে ২২ মাস দায়িত্ব পালন করা গ্রেগ চ্যাপেলকে অপসারণ করার মধ্য দিয়েই ছলচাতুরীর শুরম্ন। এরপর বাংলাদেশের তৎকালীন কোচ ডেভ হোয়াটমোরকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও পরে তাকে প্রত্যাখ্যান করে বিসিসিআই। ইংল্যান্ডের গ্রেহাম ফোর্ডকে দায়িত্ব দিতে চাইলে এবার ফোর্ড নিজেই তা ফিরিয়ে দেন। সর্বশেষ প্রায় ৮ মাস কোচহীন থাকার পর সাউথ আফ্রিকান ব্যাটসম্যান গ্যারি কারস্টেনকে তারা কোচ হিসেবে নিয়োগ দেন। উপমহাদেশের আরেক শক্তি পাকিস্তান কোচশূন্য হয় বব উলমারের মৃত্যুর পর। অবশেষে তারা জিওফ লসনকে কোচ হিসেবে পেয়ে সে শূন্যতা পূরণ করেন। টম মুডির মেয়াদ শেষ হওয়ায় শ্রী লংকা ট্রেভর বেইলিসকে কোচ হিসেবে পায়। কোচ বিদায়ের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হচ্ছে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সবচেয়ে দীর্ঘ মেয়াদি সার্ভিস দেয়া কোচ ডানকান ফ্লেচার ও জন বুকাননের পদত্যাগ। ফ্লেচার দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় একটি মাত্র অ্যাশেজ ছাড়া দলকে আর কিছু উপহার দিতে না পারলেও জন বুকানন কিন্তু ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। পরপর তিনটি ওয়ার্ল্ড কাপে চ্যাম্পিয়ন, অ্যাশেজে ইংল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ, টানা ১৬টি টেস্ট জয় আরো কতো কি! ওয়েস্ট ইন্ডিজের বেনেট কিং এবং বাংলাদেশের হোয়াটমোরের বিদায় হয় এ বছরই। হোয়াটমোরের জায়গায় বাংলাদেশ কোচ হিসেবে পায় অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ব্যাটিং কোচ জেমি সিডন্সকে এবং বেনেট কিংয়ের পরিবর্তে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দায়িত্ব পান জন ডাইসন।


ক্যাপ্টেন সমাচার
কোচের মতো ক্যাপ্টেন্সি পরিবর্তনেও ইনডিয়া বছর ধরেই আলোচিত ছিল। ওয়ার্ল্ড কাপ ব্যর্থতার পর দ্রাবিড়ের ক্যাপ্টেন্সির কড়া সমালোচনা হয়। তারপরও সে যাত্রায় বেচে যান রাহুল দ্রাবিড়। টোয়েন্টি২০ ওয়ার্ল্ড কাপকে সামনে রেখে মহেন্দ্র সিং ধোনিকে ক্যাপ্টেন হিসেবে ঘোষণা দেয়ার কিছু দিন পরই রাহুল দ্রাবিড় ক্যাপ্টেন্সি থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডেতে মহেন্দ্র সিং ধোনিকেই দলের গুরুদায়িত্ব পালন করতে হয়। কিন্তু টেস্টের জন্য বছরের শেষ দিকে ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে দাড়ানো অনিল কুম্বলেকেই পছন্দ করে বিসিসিআই। ইনজামামের পদত্যাগের কারণে পাকিস্তানও একটি ভিন্নধর্মী সিদ্ধান্ত নেয়। ক্যাপ্টেন বানায় শোয়েব মালিককে, যা এখন প্রশ্নবিদ্ধ।


বেশির ভাগ ইয়াং ক্রিকেটার ক্যাপ্টেন হিসেবে যাকে আদর্শ মানেন সেই স্টিভেন ফ্লেমিংও ওয়ার্ল্ড কাপের পর ক্যাপ্টেন্সি ছেড়ে দেয়ায় ড্যানিয়েল ভেট্টোরি দায়িত্ব পালন করছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের লারার অবর্তমানে রামনরেশ সারওয়ান এবং ইংল্যান্ডের পল কলিংউড ওয়ানডেতে ক্যাপ্টেন্সি করছেন।


যুগের চাহিদা টোয়েন্টি২০ ক্রিকেট
৫০ ওভারের ওয়ার্ল্ড কাপের আকর্ষণহীনতা কিছুটা হলেও কেটেছে টোয়েন্টি২০ ওয়ার্ল্ড কাপের মাধ্যমে। শুধু তাই নয়, ক্রিকেটে টেস্ট এবং ওয়ানডের পাশাপাশি নতুন সন্তানের বিকাশ ঘটেছে এই ওয়ার্ল্ড কাপে। সাউথ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত এ ওয়ার্ল্ড কাপ দারুণ সফল হয়েছে এবং সারা বিশ্ব উপভোগ করেছে দুই চোখ জুড়ে। এটা যে ব্যাটসম্যানদের জন্য উৎসবে মেতে ওঠার খেলা সেটা ইংল্যান্ডের স্টুয়ার্ট ব্রড ছাড়া আর কে বুঝবে বলুন। কারণ যুবরাজ সিংয়ের হাতে ৬ বলে ৬ ছক্কা খাওয়ার বেদনা তো তাকেই সইতে হয়েছে। তাছাড়া ৬ মাস আগে হয়ে যাওয়া মূল ওয়ার্ল্ড কাপে ইনডিয়া-পাকিস্তান যে ব্যর্থ হয়েছিল সেটাও কিছুটা হলেও বুঝিয়ে দিয়েছে যথাক্রমে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ হয়ে।


বাংলাদেশের ক্রিকেট
এ বছর ২০০৬-এর মতো ম্যাচ জয়ের ক্ষেত্রে সংখ্যাগত পার্থক্য অনেক হলেও যা করেছে তাতে সারা বিশ্বকে কাপিয়ে দিতে পেরেছে। ওয়ার্ল্ড কাপ দিয়েই শুরু করি। ওয়ার্ল্ড কাপে বাংলাদেশ প্রথম ঝলসে ওঠে গ্রুপ পর্বে ইনডিয়ার বিপক্ষে। তাতেই ইনডিয়া ওয়ার্ল্ড কাপ থেকে প্রথম রাউন্ডেই বিদায় নেয়। এরপর সুপার এইটে আশরাফুলের এক অসাধারণ এবং অতি মানবীয় একটি ইনিংসই সাউথ আফ্রিকাকে মাটিতে নামিয়ে দেয়। টোয়েন্টি২০ ওয়ার্ল্ড কাপেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আবারো আশরাফুলের এক ইনিংসের ওপর ভর করে দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠে বাংলাদেশ এবং তাতেই সারা বিশ্ব বাংলাদেশকে সমীহ করা শুরু করে।

মাঠের বাইরেও ঘটে যায় নানা পরিবর্তন-সংশোধন। ডেভ হোয়াটমোরের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়াতে শুরু হয় কোচ খোজা এবং অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব দেয়া হয় শন উইলিয়ামসকে। তারই অধীনে টোয়েন্টি২০ ক্রিকেটে বাংলাদেশ অংশগ্রহণ করে এবং অবশেষে অস্ট্রেলিয়ান সাবেক ব্যাটিং কোচ ও ওয়ানডে প্লেয়ার জেমি সিডন্সকে কোচ হিসেবে পায় আশরাফুলরা। ইনডিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পরই ক্যাপ্টেন্সিতেও আসে পরিবর্তন আর সেটা হলো জুন মাসের শুরুতে। মাত্র ২২ বছর বয়সী আশরাফুল জিম্বাবুয়ের প্রসপার উটসেয়ার পর দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ প্লেয়ার হিসেবে অধিনায়কত্বের আর্মব্যান্ড পরেন।


এ বছরই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচিত কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি তৈরি করা হয়। রফিকুল আলমের নেতৃত্বে দুর্জয় ও আকরাম খানের সমন্বয়ে নতুন নির্বাচক প্যানেল তৈরি হয়। এবং দলের হয়ে দীর্ঘদিন সার্ভিস দেয়া মোহাম্মদ রফিকের বাদ পড়াও অন্যতম আলোচিত ও সমালোচিত ঘটনা। সঙ্গে সঙ্গে খালেদ মাসুদ জাতীয় লিগে ভালো রান করেও টেস্ট দলে সুযোগ না পাওয়াও একটা বিস্ময়।


ক্রিকেট গ্রেটদের বিদায়
ক্রিকেট মাঠে গড়াবে, নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হবে কিন্তু এই একটি বছরে যারা বিদায় নিয়েছেন তাদের মতো লেজেন্ডদের আর ক্রিকেট বিশ্ব দেখতে পারবে কিনা সন্দেহ। ব্রায়ান চার্লস লারা রেকর্ডের বরপুত্র টেস্টে সর্বাধিক রান সংগ্রহকারী যার নামের পাশে রয়েছে ৩৭৫ ও ৪০০ রানের ইনিংস তাকে আর ক্রিকেট বিশ্ব জাতীয় দলের হয়ে মাঠে দেখবে না। গেস্নন ম্যাকগ্রা-শেন ওয়ার্ন যাদের আর খুজে পাওয়া যাবে না খেলার মাঠে বল হাতে। তবে মুরালির মাধ্যমে এ বছরের শেষ অবধি কাগজের পাতায় ঠিকই ওয়ার্ন ছিলেন কারণ তিনিই তো ৭০৮টি উইকেট নিয়ে ওয়ার্নের রেকর্ড ভেঙেছেন। পাকিস্তানের ইনজামাম-উল হকও দুই ধরনের ক্রিকেট ছেড়েছেন এ বছরই। মার্চে ওয়ার্ল্ড কাপের সময় ওয়ানডে আর অক্টোবরে সাউথ আফ্রিকার বিরুদ্ধে শেষ টেস্ট খেলে ১৫ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের যবনিকা টানলেন। টেস্টে তার করা ২৫টি সেঞ্চুরির মধ্যে ১৬টিতেই জয় পায় পাকিস্তান। ক্রিকেট বিশ্ব আর এ দীর্ঘদেহী ম্যাচ উইনারের ক্রিজে অলস সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবে না।


আরো দুটি ঘটনা যা বিশ্ব তথা বাংলাদেশি ক্রিকেট অনুরাগীদের কাদাবে। গত ২৭ মে আইসিসির পার্সি সন সাউথ আফ্রিকার কেপটাউনে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন। সাউথ আফ্রিকান ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক এই প্রেসিডেন্ট মৃত্যু পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন আইসিসির প্রেসিডেন্ট হিসেবে।

যাকে ধরা হয়েছিল রফিকের উত্তরসূরি সেই মানজারুল ইসলাম রানাও এ দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে শোকের চাদরে মুড়িয়ে চিরবিদায় নিয়েছেন ১৬ মার্চ। মাত্র ২২ বছর বয়সী এই প্রতিভাবান অল রাউন্ডারটি এ দেশের হয়ে ২৫টি ওয়ানডে ও ৬টি টেস্ট খেলেছেন। মানজারুল ইসলাম রানা হয়তো ওপারে গিয়েও ক্রিকেটের জয় দেখতে চান। আমরাও চাই নতুন বছরে বিশ্ব ক্রিকেট যেন আরো সমৃদ্ধ হয়। সমৃদ্ধ হয় যেন এ দেশেরও ক্রিকেট।

 
************************
লেখকঃ এ এইচ এম সাখাওয়াতদৌলা রবিন
দৈনিক যায়যায়দিন, ডিসেম্বর ২০০৭