কর্মময় একটি বছর ২০০৭ কে বিদায় জানালাম আমরা। এ বছর সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ঘটেছে অনেক ঘটনা-দুর্ঘটনা। চলচ্চিত্র, সঙ্গীত, নাটক সব ক্ষেত্রেই ঘটনাবহুল এ বছর। বিশেষ করে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অগ্রগতি চোখে পড়ার মতো।

সঙ্গীতাঙ্গনঃ বরাবরের মতোই সরগরম ছিল আমাদের সঙ্গীতাঙ্গন। সরব ছিলেন পুরনোরা। পাশাপাশি নতুনদের উপস্থাপনও ছিল চোখে পড়ার মতো। এ বছরের অন্যতম আলোচিত অ্যালবাম ছিল ‘পাঞ্জাবীওয়ালা’। হাবিব ওয়াহিদের কম্পোজিশনে শিরিনের গাওয়া ৮টি ফোক গানের রিমিক্স তৈরি হয়েছে অ্যালবামে। অ্যালবামটির সবচেয়ে আলোচিত গানটি হল টাইটেল সং ‘পাঞ্জাবীওয়ালা’। ক্যাসেটটি বাজারে আসার পর থেকেই শ্রোতারাদের আগ্রহ সৃষ্টি করতে সমর্থ হয়েছে। কারণ হিসেবে অবশ্যই হাবিবের মিউজিকের মুন্সিয়ানার পাশাপাশি শিরিনের সুকণ্ঠেরও অবদান রয়েছে। এ বছরের আরেকটি আলোচিত অ্যালবামের নাম ‘বালাম’। জাহিদ পিন্টুর কথায় আটটি শ্রুতিমধুর গানের সমন্বয় ঘটেছে বালামের কণ্ঠে। তন্মধ্যে ‘এক মুঠো রোদ্দুর’ ও ‘তোমার জন্য’ গান দু’টি বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছে। আর সার্বিকভাবে বলা যায় বালাম তার শ্রোতাদের প্রত্যাশাকে পুরোপুরি মেটাতে সক্ষম হয়েছেন। শ্রোতাদের প্রত্যাশা মেটাতে সক্ষম হয়েছে আরেকটি অ্যালবাম। বাপ্পা মজুমদারের ‘দিন বাড়ি যায়’। এটিও এ বছরের আলোচিত অ্যালবামগুলোর অন্যতম একটি। ইমপ্রেস অডিও ভিশনের ব্যানারে রিলিজ হওয়া অ্যালবামটির প্রতিটি গানই শ্রুতিমধুর। প্রয়াত বারীণ মজুমদারের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখা সুপুত্র বাপ্পা মজুমদার ১৯৯৫ সালে দলছুট গঠনের পর থেকেই বাংলা গানে এক ধরনের ভালো লাগা সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন। তার রয়েছে বিরাট এক শ্রোতা গোষ্ঠী। তাদেরকে হতাশ না করে দিন বাড়ি যায়, চাঁদের কণা, মেঘে ঢাকা শশী ইত্যাদি গান উপহার দিয়েছেন। অনেক দিন আগে প্রকাশ হলেও ‘দিন বাড়ি যায়’ অ্যালবামের গান এখনো মানুষের মুখে মুখে ফিরছে। তাই বলা যায় অ্যালবামটি এ বছরের অসংখ্য গানের মধ্যে সফল একটি অ্যালবাম। সফলতার দিক দিয়ে আরেকটি অ্যালবামের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। গানচিলের ব্যানারে বাজারে আসা অ্যালবামটির নাম ‘বন্দনা’। ক্লোজআপ ওয়ান তারকাদের অনেকেই আশা জাগিয়ে শেষ পর্যন্ত ঢেউ তুলতে পারেননি যেমনটি পেরেছেন এই অ্যালবামের গায়ক মাহাদী। কবি, সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘কেউ কথা রাখেনি’ কবিতার বরুনাকে দিয়ে শুরু হওয়া গান ‘তুমি বরুনা হলে হব আমি সুনীল’ গানটির জনপ্রিয়তার কথা অবিস্মরণীয়। অ্যালবামটি মুক্তির পর প্রতিটি মানুষের মুখে গুঞ্জরিত হয়েছে গানটি। আসিফ ইকবালের কথায় ও প্রিন্স মাহমুদের কথা ও সুরে অ্যালবামটি সক্ষম হয়েছে সঙ্গীত পিয়াসীদের মন ভরাতে পুরোপুরি। আর গানচিলের কর্ণধার কুমার বিশ্বজিতও নিশ্চয়ই আরো বেশি অনুপ্রাণিত হয়েছেন ভালো গানের পৃষ্ঠপোষকতা করতে। ফলে বের করেছেন দ্বিতীয় ক্লোজআপ ওয়ান তারকা সালমার একক ফোক গানের অ্যালবাম। ফরিদা পারভীনের পর আর কোনো শিল্পীকে ফোক গান গাওয়ার ব্যাপারে তেমন উৎসাহী দেখা যায়নি। এ বছর সালমার জাদুকরী কণ্ঠে প্রকাশ পেয়েছে তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘বন্ধু আইয়ো আইয়ো’। দশটি ফোক গানের সমন্বয়ে এই অ্যালবামটি এক কথায় ছিল অসাধারণ। শ্রোতারাও সালমার কাছ থেকে এ ধরনের একটি অ্যালবামের প্রত্যাশায় ছিল। কারণ সালমা এ ধরনের গানের মাধ্যমেই ক্লোজআপ ওয়ানের শীর্ষস্থানে উঠতে সক্ষম হয়েছিলেন। সালমা ও কুমার বিশ্বজিত দু’জনই এ কারণেই সাধুবাদ প্রাপ্য।


জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আসিফের কদর যে কমেনি তা এ বছর প্রকাশ হওয়া তার বিভিন্ন একক ও মিক্সড অ্যালবামের সাফল্য প্রমাণ করে। বলতে গেলে তার একক অ্যালবামের প্রত্যেকটিই ব্যবসা সফল। মিক্সড অ্যালবাম সফল হওয়ার ক্ষেত্রে অন্য শিল্পীদের ভূমিকা থাকে বলে আসিফের একার দোষ দেয়া ঠিক হবে না। তবে ‘অবহেলা’ নামের মিক্সড অ্যালবাম সে সংশয়কেও উড়িয়ে দিয়েছে। মাহমুদ জুয়েলের কথা ও সুরে অ্যালবামটিতে গান গেয়েছেন আসিফ, আরিফ ও মাহমুদ জুয়েল নিজে। ১২টি চমৎকার গানের সমন্বয় ঘটেছে এখানে। টাইটেল সং অবহেলাসহ প্রতিটি গানই শ্রোতাদের সমাদরধন্য হয়েছে। অন্য দিকে ডুয়েট ক্যাসেটের উল্লেখ করতে গেলেও সেখানে চলে আসে আসিফের নাম। বেবী নাজনীনের সাথে দ্বৈত অ্যালবামটির নাম ‘তুমি আমার স্বপ্নঘুড়ি’। সাউন্ডটেক থেকে প্রকাশিত অ্যালবামটির ১১টি গানের বেশিরভাগই শ্রোতাদের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছে। আগে থেকেই বহুল জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদিতে প্রচারিত হয়েছিল এ অ্যালবামের ‘ভালোবাসার জন্য আমি’ গানটি। ফলস্বরূপ প্রকাশের আগেই পরিচিতি বেড়েছে অ্যালবামটির। পাশাপাশি বেড়েছে বাজারের কাটতি। এ সমস্ত কারণেই এ বছরের আলোচিত অ্যালবামগুলোর একটি এটি। ফাহমিদা নবী বিক্ষিপ্তভাবে গান গাইলেও তার গানের এক ধরনের শ্রোতা তৈরি হয়েছে অনেক আগেই। সঙ্গীত পরিবারের এই শিল্পী এ বছর প্লে-ব্যাকের পাশাপাশি গান গেয়েছেন ‘আমি আকাশ হব’ নামের একটি মিক্সড অ্যালবামে। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘অগ্নিবীণা’ বাজারে এনেছিল অ্যালবামটি। ফাহমিদার সাথে এখানে আরো গেয়েছেন বাপ্পা মজুমদার, এস আই টুটুল, তোনি এবং টিপু। আধুনিক বাংলা গানের ক্ষেত্রে এই অ্যালবামটি ছিল অন্যতম আলোচিত একটি অ্যালবাম। ফাহমিদার গাওয়া ‘আমি আকাশ হব’ গানটিসহ অন্যদের গাওয়া গানগুলোও পেয়েছে অসম্ভব জনপ্রিয়তা। অ্যালবামটির পাঁচ শিল্পীর গাওয়া ‘ভালোবাসা দিবসে’ গাওয়া গানটি ব্যাপক সমাদৃত হয়েছে সুধী মহলে। বছরের আর একটি ভিন্নধর্মী প্রয়াস ছিল কুমার বিশ্বজিত ও কলকাতার নন্দিত শিল্পী মিতালী মুখার্জির ডুয়েট অ্যালবাম ‘স্বপ্ন উড়াই’। গুণী এ দুই শিল্পী সম্পর্কে নতুন করে বলার কিছুই নেই। তবে মিতালী এ দেশকে কখনোই পরদেশ মনে করেন না। এ দেশেই কেটেছে তার শৈশব, কৈশোর। এ দেশেই তিনি পুতুল খেলতে খেলতে বড় হয়েছেন। তাই তো যেকোনো প্রয়োজনেই তাকে পাওয়া যায় আমাদের পাশে। এবারো গানচিলের ডাকে সাড়া দিয়ে গেয়েছেন কুমার বিশ্বজিতের সাথে। এ দু’জনের প্রথম ডুয়েট অ্যালবামটিও শ্রোতাদের হৃদয়ে নাড়া দিতে সক্ষম হয়েছে। বছরের শেষে দলছুটের শ্রোতাদের সুসংবাদ হয়ে আসে ‘জোছনা বিহার’। চার বছর পর এই জনপ্রিয় ব্যান্ডের অ্যালবামটি কেনার জন্য প্রতিক্ষায় ছিল শ্রোতা মহল। বিশেষভাবে সফল এই অ্যালবামটির সাথে জড়িয়ে আছে আরো বিশেষ এক ধরনের অনুভূতি। এটিই ছিল ব্যান্ড দলটির অন্যতম সদস্য সঞ্জীব চৌধুরীর গাওয়া শেষ ব্যান্ড অ্যালবাম। এই শিল্পী পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে যান ১৯ নভেম্বর ২০০৭।
এ বছরও সঙ্গীতসংশ্লিষ্ট প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান, গায়ক, গীতিকার, সুরকার গলা ফাটিয়েছেন পাইরেসি বিষয়ে। পাইরেসি হওয়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এ শিল্পটি। তবে কিছু সফল আইনানুগ অভিযানের ফলে অবস্থার কিছুটা উন্নতি ঘটেছে। অন্য দিকে সারা বছরই আলোচনা ছিল এফএম রেডিওর প্রচারস্বত্ব নিয়ে। নানা সময়ে একাধিক শিল্পী ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান দাবি জানালেও পুরো বছরজুড়ে আলোর মুখ দেখেনি রয়্যালটি সংক্রান্ত কোনো নীতিমালা কিংবা উদ্যোগ। সঞ্জীব চৌধুরী ছাড়াও আমাদের ছেড়ে চিরদিনের মতো বিদায় নিয়েছেন আঞ্চলিক গানের সম্রাজ্ঞী শেফালী ঘোষ ও বাংলাদেশ বেতার-টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রের নিয়মিত সঙ্গীত শিল্পী নার্গিস পারভীন। দেশের কোকিলকণ্ঠী গায়িকা সাবিনা ইয়াসমিন আক্রান্ত হন দুরারোগ্য ক্যান্সারে বছরের মাঝামাঝিতে। দীর্ঘ দিন দেশ-বিদেশে চিকিৎসার পর আবার দেশে ফিরে গান গাইছেন তিনি। নজরুলসঙ্গীতে অবদান রাখার জন্য এ বছর নজরুল একাডেমী পদক পান শাহীন সামাদ ও ফাতেমা-তুজ-জোহরা।


নাটাঙ্গনঃ ছোট পর্দার অনেক জনপ্রিয় অভিনেতা-অভিনেত্রীই বিয়ের কাজ সেরে ফেলেছেন ২০০৭ সালে। একেবারে শেষের দিকে ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী অপি করিম হঠাৎ করেই বিয়ে করে চমকে দিয়েছে সবাইকে। সে হিসেবে ২০০৭ সালকে তারকাদের বিয়ের বছর বললে ভুল হবে না।
কম-বেশি অভিনয় নিয়ে যারা ব্যস্ত ছিলেন তাদের অনেকেই ২০০৭ সালে এসে নাম লেখালেন নির্মাতার খাতায়। গাজী রাকায়েত, আফজাল হোসেন, সালাউদ্দীন লাভলু, আমজাদ হোসেনের মতো শক্তিমান অভিনেতা আগে থেকে পরিচালনার সাথে যুক্ত থাকলেও ২০০৭ সালে এসে নির্মাতা হিসেবে নিজেদের ভিত্তিটা বেশ শক্তভাবেই গড়ে তুললেন। আবার নিয়মিত অভিনেতাদের মধ্যে শহিদুজ্জামান সেলিম, তৌকীর আহমেদ, আফসানা মিমি, জাহিদ হাসান, শাহেদের মতো অনেক তারকাই ২০০৭ সালে নির্মাতা হিসেবে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন।


২০০৭ সালে স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোর জনপ্রিয় নাটকগুলোর মধ্যে ছিল সুন্দরীতমা, কেদারা, ফুটবল ফাটাফাটি, ফাঁপর, ডোন্ট মাইন্ড, অন্তরার বাবা, মিহির আলীর প্রত্যাবর্তন, চোরকাটা দুই রুস্তম ইত্যাদি। প্যাকেজ নাটকের সাথে পাল্লা দিয়ে ২০০৭ সালে সিরিয়ালের সংখ্যাও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। ২০০৭ সালে প্রচারিত সিরিয়ালগুলোর মধ্যে আছে আউটডোর, কাঠ কয়লার ছবি, দি নিউ সবুজ অপেরা ও আমার চক্ষু নাই, ভবের হাট, ঘরকুটুম প্রভৃতি। এদের মধ্যে অনেক সিরিয়ালের প্রচার ২০০৬ সালে শুরু হয়ে ২০০৭ সালে এসে শেষ হয়েছে। আবার অনেক সিরিয়ালের প্রচার চলছে। চ্যানেলগুলোতে সিরিয়ালের অভাব না থাকলেও অভাব রয়েছে মানসম্পন্ন নির্মাণের। যার কারণে অনেক সিরিয়ালই দর্শকনন্দিত হয়নি। আবার মাঝ পথেই বন্ধ করে দিতে হয়েছে অনেক সিরিয়াল। বিভিন্ন উৎসব-পার্বণে ছোট পর্দায় ২০০৭ সালে মুক্তি পেয়েছে বেশ কিছু গুণী নির্মাতার বাংলা ছায়াছবি। এসব ছবিতে অভিনেতা-অভিনেত্রী হিসেবে ছিলেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় সব তারকা। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন­ ফজলুর রহমান বাবু, শহীদুল আলম সাচ্চু, গাজী রাকায়েত, মম, মোশাররফ করিম, আবুল হায়াত, তৌকীর আহমেদ প্রমুখ।


অন্য বছরের মতো ২০০৭ সালেও নানারকম রটনা তারকাদের পিছু ছাড়েনি। এদের মধ্যে বেশিরভাগ সত্য হলেও অধিকাংশই রটনা ছাড়া আর কিছুই নয়। বিয়ের ব্যাপার নিয়েও তারকারা কম ঘটনার জন্ম দেননি। এই যেমন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ২০০৭ সালের মধ্যে বিয়ের ঘোষণা দিলেও এখন শোনা যাচ্ছে তিনি ২০০৮ সালের মধ্যে বিয়ে করবেন।


২০০৭ সালে প্রচার শুরু হওয়া জনপ্রিয় সিরিয়ালগুলোর মধ্যে রয়েছে আমাদের নুরুল হুদা, ডলস হাউজ, গুজব, চন্দ্র কারিগর, মৌচাকে ঢিল, ঘর কুটুম, আলোকনগর, স্বপ্নচূড়া, রঙ্গিলা বাও, ব্যস্ত ডাক্তার প্রভৃতি। এর বেশিরভাগই গ্রামগঞ্জের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার প্রাত্যহিক চিত্র নিয়ে নির্মিত।


২০০৭ সালের আলোচিত নির্মাতাদের মধ্যে রয়েছেন হুমায়ূন আহমেদ, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, অমিতাভ রেজা, হানিফ সংকেত, সালাউদ্দীন লাভলু, মাহফুজ আহমেদ, তৌকীর আহমেদ, আফজাল হোসেন প্রমুখ। তবে হুমায়ূন আহমেদ ও হানিফ সংকেত প্রতি বছরই আলোচিত থাকেন।
রোজার ঈদে ইত্যাদি আর কোরবানির ঈদে অনুষ্ঠান এই দুই নিয়েই প্রতি বছর দর্শকদের সামনে উপস্থিত হন জনপ্রিয় নির্মাতা হানিফ সংকেত। ২০০৭ সালের শেষের দিকে ঈদুল আজহার ভিন্নধর্মী নাটক ‘ভূত-অদ্ভুত’-এর মাধ্যমে তিনি আবারো তা প্রমাণ করলেন।


২০০৭ সালে নতুনদের জোয়ারে ভেসে গেছে টিভির পর্দা, নতুন বেশ কিছু মুখ রাতারাতি জনপ্রিয়তা পেয়ে গেছেন। এদের মধ্যে বাঁধন, মম, মুনমুন, নীরব, বাবু, হিমেল, জ্যোতি উল্লেখযোগ্য।


২০০৭ সালে মিডিয়ায় ছিল নানা রকম মন্তব্যের জোয়ার। জাতীয় স্টেডিয়াম ভাড়া করে সেখানে বিয়ের অনুষ্ঠান করার ঘোষণা দিয়েছেন জনপ্রিয় নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। আবার বড় পর্দার জনপ্রিয় নায়িকা শাবনূর ঘোষণা দিয়েছেন নাটক নির্মাণ করার।


চলচ্চিত্রাঙ্গনঃ বিভিন্ন ঘটনা-দুর্ঘটনার জন্ম দিয়ে অবশেষে শেষ হলো ২০০৭ সাল। এ বছরটা চলচ্চিত্রের জন্য ছিল অপেক্ষাকৃত সুখকর। ক্রমশ ফিরে আসতে শুরু করছে সুস্থতা, নির্মাণ হচ্ছে ভালো ভালো ছবি, পুরস্কৃতও হচ্ছে দেশ-বিদেশে। ২০০৭ সাল চলচ্চিত্রের ইতিহাসে আলোচিত এক বছর হয়ে থাকবে। বিভিন্ন কারণে এ বছর এখানে জন্ম নিয়েছে নানা ঘটনা-দুর্ঘটনার। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো অশ্লীলতাবিরোধী কর্মসূচির অংশ হিসেবে টাস্কফোর্স গঠন। টাস্কফোর্সের আহ্বায়ক মেজর হামিদ আব্দুল ওয়াদুদের নেতৃত্বে ৭ অক্টোবর থেকে এফডিসিসহ সারাদেশে অভিযান শুরু করে। ফলস্বরূপ বাংলা চলচ্চিত্রের সূচিপত্র থেকে বিলীন হতে শুরু করেছে অশ্লীল ছবি, অশ্লীল প্রযোজক-পরিচালক। দেশজুড়ে তাৎক্ষণিক কিছু প্রতিক্রিয়াও পাওয়া গেছে। ব্যবসায়িক মন্দার কারণে বছরজুড়ে অনেক হল মালিক এ ব্যবসায় ছেড়ে দেয়ারও প্রস্তুতি নিয়েছেন। আবার আমাদের ছেড়ে চিরদিনের মতো বিদায় নিয়েছেন পৃথিবী থেকে কেউ কেউ। ‘জীবন থেকে নেয়া’ খ্যাত অভিনেত্রী রোজী আফসারী তাদের একজন। আরো মারা গেছেন চলচ্চিত্রের শক্তিমান অভিনেতা ব্লাক আনোয়ার, খল অভিনেতা নাসির খান। ঐতিহ্যবাহী গুলিস্তান হলের মতো মাল্টিপ্লেক্স স্থাপনের আশ্বাস দিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে জনপ্রিয় সিনেমা হল ‘শ্যামলী’। দুঃসবাদের পাশাপাশি রয়েছে একাধিক শুভসংবাদ। বিয়ে ভেঙে যায় নায়িকা পূর্ণিমার এ বছরের মাঝামাঝি, বিয়েও করে ফেলেছে আবার নভেম্বরে। ডিসেম্বরে এসে বিয়ে করেন চিত্রনায়ক রিয়াজ। তার স্ত্রী শোবিজেরই মডেল।


বছরের পয়লা দিনটাতেই চ্যানেল আইতে ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হয় মেডইন বাংলাদেশ ছবিটির। পরিচালনা করেছেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। খোরশেদ নামের বেকার যুবকের চাকরি না পাওয়ার হতাশা থেকে ঘটে মস্তিষ্ক বিকৃতি। মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় সে এলাকার কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে জিম্মি করে তার কিছু দাবি-দাওয়া আদায়ের জন্য। এই ছবিটি নিয়ে দারুণ সমালোচনার মুখোমুখি হন নির্মাতা। ছবিটি তেমন দর্শক দৃষ্টি কাড়তে সফল হয় নি। কিন্তু স্বপ্নডানায় ছবিটির অস্কারের (একাডেমি পুরস্কার) জন্য মনোনীত হওয়া এ ছবিটি ছিল ২০০৭ সালের সবচেয়ে আলোচিত ফিল্ম। ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ব্যানারে ৫ আগস্ট প্রিমিয়ার হওয়া জীবনঘনিষ্ঠ এ ছবিটি এখানেই থেমে থাকেনি, গেঁথে গেছে একের পর এক সাফল্যগাথা। দেশের সুধীজনদের হৃদয় জয় করে পাড়ি দিয়েছে সুদূর চীন, যুক্তরাষ্ট্রে। তরুণ পরিচালক গোলাম রব্বানী বিপ্লব জিতে নেন দশম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে এশিয়ার নিউ ট্যালেন্ট বিভাগের সেরা পরিচালকের পুরস্কার। ১০টি দেশের ১০ জন পরিচালককে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পকেটে পুরে নেন ২০ হাজার মার্কিন ডলার ও ক্রেস্ট। উপরন্তু আয়োজকদের তরফ থেকেও পান আরো অন্যরকম উপহার। তিনি ইচ্ছা করলে চীনে একটা সিনেমা নির্মাণ করতে পারবেন তাদের ৩০ লাখ টাকা মূল্যমানের কারিগরি সহযোগিতা নিয়ে। এ ছাড়াও প্রদর্শনের জন্য মনোনীত হয় শিকাগো চলচ্চিত্র উৎসবে। আরো মনোনীত হয় বুলগেরিয়ার সোফিয়া ফিল্ম ফেস্টিভাল প্রতিযোগিতায়, নেদারল্যান্ডের রটারডাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে। গ্রামের একজন ক্যানভাসারের জীবন কাহিনী নিয়ে নির্মিত আলোচ্য ছবিতে অভিনয় করে যারা ধন্য হয়েছেন তারা হলেন­ মাহমুদুজ্জামান বাবু, রোকেয়া প্রাচী, ফজলুর রহমান বাবু, শাহ আলম কিরণ প্রমুখ। হুমায়ূন আহমেদের ছবি নয় নম্বর বিপদ সঙ্কেত দর্শক দারুণভাবে পছন্দ করেছে।


পৃথিবীর তিন ভাগ জলের মাঝে এক ভাগ স্থলের মতোই জীবনে হাসির অবস্থান। প্রাণ খুলে হাসতে পারা মানুষের সংখ্যা যেমন কম, হাসির উপলক্ষও মেলা ভার। তাই তো বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ৫০ বছর পূর্তির পরও হাসির ছবি খুঁজে পাওয়া যায় না। ১৯৬৬ সালে নজরুল ইসলাম পরিচালিত ‘কার বউ’-এর মাধ্যমে বাংলা চলচ্চিত্রে হাসির ছবির আবির্ভাব। তারপর ‘১৩ নং ফেকু ওস্তাগর লেন (১৯৬৬), ‘গোপাল ভাঁড় (১৯৭৪)’, ‘হাবা হাসমত’ (১৯৭৭), ‘ছুটির ফাঁদে (১৯৯০)’এর মতো কিছু প্রয়াস দেখা গেলেও বাংলা চলচ্চিত্রে হাসির ছবির বরাবরই অভাব থেকে গেছে। এ বছর জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার ও নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদ তার শূন্যস্থান পূরণ করলেন ‘নয় নম্বর বিপদ সঙ্কেত’ ছবিটি মুক্তি দেয়ার মাধ্যমে। ৬ জুলাই মুক্তি পাওয়া ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত এ ছবিটি তাৎক্ষণিকভাবে দেশব্যাপী সাড়া ফেলে দেয়। এই কমেডি ছবিটিতে দর্শকদের নির্মল আনন্দ দেয়ার লক্ষ্যে অভিনয় করেছেন রহমত আলী, জয়ন্ত চট্টপাধ্যায়, তানিয়া, দিতি ও আসাদুজ্জামান নূর প্রমুখ।
বছরের আর এক আলোচিত কমেডি ধাঁচের ছবি ‘ডাক্তার বাড়ি’। ১৩ জুলাই মুক্তি পায় আজিজুর রহমান পরিচালিত এ ছবিটি। ভালো গল্প, ভালো নির্মাণ হলে দর্শকরা যে স্বাগত জানাতে ভোলে না তার প্রমাণ মিলেছে এ ছবির মাধ্যমে। মুক্তির প্রথম দিন থেকেই বেশিরভাগ প্রেক্ষাগৃহে ‘হাউজফুল’ বোর্ড ঝুলতে দেখা গেছে। তখন বহু দিন পর ঢাকার প্রেক্ষাগৃহপূর্ণ অবস্থায় দেখা যাওয়ায় উৎফুল্ল ভাব লক্ষ করা গেছে চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মাঝে। ‘তিন ভাইয়ের সুখের সংসারে এক সময় জ্বলে ওঠে ভুল বোঝাবুঝির আগুন, এক সময় নিভেও যায় সে আগুন’­ এমনই গল্প নিয়ে অত্যন্ত মজাদার উপাদানসমৃদ্ধ ছবি ডাক্তার বাড়ি।


জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের কাহিনী নিয়ে এ বছর আরো একটি ছবি নির্মিত হয় ‘দারুচিনি দ্বীপ’। আর এবার তার সাথে সংযুক্ত হন উত্তরোত্তর উন্নতি করা পরিচালক তৌকীর আহমেদ। প্রশংসিত এ ছবিটির সবচেয়ে আকর্ষণ ছিল এ আর স্বপনের চিত্রগ্রহণ। তার নান্দনিক ক্যামেরার কাজে এ ছবিতে মূর্ত হয়েছে ঢাকা শহর, জাহাঙ্গীরনগর ক্যাম্পাস, পুরনো ঢাকার কয়েতটুলীতে প্রয়াত জহির রায়হান-শহীদুল্লাহ কায়সারদের বাড়ি, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর, বিশেষত সেন্টমার্টিন। সেন্টমার্টিন ও ছেঁড়াদ্বীপকে বিশেষভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এ দু’টি জায়গার প্রতিটি কোণ থেকে দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে। ৩১ আগস্ট মুক্তি পাওয়া এ ছবিটিতে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল ইসলামের গান রাখা হয়েছে

‘যুদ্ধ মানেই শত্রু শত্রু খেলা
যুদ্ধ মানেই
আমার প্রতি তোমার অবহেলা।’


কবি নির্মলেন্দু গুণের তিন লাইনের এই কবিতা থেকেই সৃষ্টি হয়েছে শত্রু শত্রু খেলা পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি। বিজ্ঞাপন নির্মাতা জয়নাল আবেদিন পরিচালিত এ ছবিটি বছরের শেষে এসে মুক্তি পায় ঈদুল আজহাকে উপলক্ষ করে। সাথে সাথে বাজিমাত করতেও ছাড়েনি ছবিটি। সাধারণ দর্শকদের মতোই মুগ্ধ হয়েছেন কবি নির্মলেন্দু গুণ। নিজেই ছবিটি দেখে। তুলনা করেছেন আধুনিক বলিউডি ফিল্মের সাথে। পাশাপাশি প্রশংসা করেছেন ছবিটিতে নতুন মুখ হিসেবে অভিনয় করা নায়িকা স্বাগতাকে। স্বাগতা সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা ইউ গট দ্য লুকের বেস্ট লুক। এক সময়ে গান ছিল বাংলা সিনেমার প্রাণ। এ ছবির গানও হয়েছে শ্রোতাধন্য। তাই স্বাভাবিক কারণেই বছরের আলোচিত চলচ্চিত্রের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে ‘শত্রু শত্রু খেলা’।


এ দেশে মূল ধারার পাশাপাশি ভিন্ন ধরার জীবনঘনিষ্ঠ চলচ্চিত্র নির্মাণের ফলে মূল ধারার কিছু নির্মাতা প্রায়ই অনুযোগ করে থাকেন, তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করা হচ্ছে না। সরকারি-বেসরকারি অ্যাওয়ার্ডও ভিন্ন ধারার চলচ্চিত্র নির্মাতাদের বোগলদাবা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের। এ জন্য মূল ধারার বাণিজ্যিক ছবি নির্মাণ হচ্ছে না। কিন্তু সব অভিযোগ-অনুযোগকে মিথ্যা প্রমাণ করে দিয়ে এ বছর অসামান্য ব্যবসা করে নেয় মূল ধারার ছবি ‘মনের সাথে যুদ্ধ’। নায়ক মান্না প্রযোজিত ছবিটি তরুণ প্রজন্মের দর্শকদের আকৃষ্ট করতে ভীষণভাবে সক্ষম হয়। আর এ জন্য কিছুটা টনিকের মতো কাজ করেছেন আমাদের জেমস।


বলিউডে প্লেব্যাক করার সুবাদে ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক গায়কের তকমা লাগানো কণ্ঠশিল্পী প্রথমবারের মতো বাংলা সিনেমার জন্য প্লেব্যাক করেছেন এ ছবির মাধ্যমে। এই ছবির অডিও রাইট পেয়েছে অনুপম রেকর্ডিং মিডিয়া। জানা গেছে, স্বত্ব বিক্রি হয়েছে কড়া দামে।


ইতিহাসের পাতায় পিতাপুত্রের অনেক সাফল্যগাথা রয়েছে। যেমন­ ইংল্যান্ডের সফল রাজা হেনরির কার্যক্রমকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন তারই ছেলে হেনরি দ্য ফোর্থ। সম্রাট বাবরের ছেলে হুমায়ুনের জন্য জীবন দান ছেলের জন্য শ্রেষ্ঠ ত্যাগ হয়ে থাকবে বাবাদের ইতিহাসে। অন্য দিকে সোহরাব-রুস্তমের মতো বিরোধও সাক্ষ্য দেয় ইতিহাস। বলিউডের অমিতাভ-অভিষেক, দেশের ফেরদৌস ওয়াাহদ-হাবিব ওয়াহিদ, রাজ্জাক-বাপ্পারাজ বাপ-বেটাকে আরো সুন্দরভাবে চেনাতে সাহায্য করে। তেমনই এক বাপবেটা জুটি চলচ্চিত্রাঙ্গনে কাজী হায়াত ও কাজী মারুফ। ৩৩ বছর চলচ্চিত্রাঙ্গনে কাজ করা অভিজ্ঞ কাজী হায়াত এ বছর তৈরি করেছিলেন দর্শকদের জন্য ‘ক্যাপ্টেন মারুফ’। বরাবরই রাজনৈতিক সিনেমা তৈরি করতে সিদ্ধহস্ত কাজী হায়াতের এ ছবিটি সঙ্গত কারণেই উঠে আসে আলোচনায়। তেমনি আলোচিত হন এ ছবির নায়ক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া অভিনেতা কাজী মারুফ। প্রচুর দর্শকপ্রিয়তা পাওয়া ছবিটি অভিজ্ঞ কাজী হায়াতের নিজের হাতে গড়া নিপুণ সৃষ্টি। ছবিটির সাফল্য সুস্থ ছবির ধারাবাহিক নির্মাতাদেরও উৎসাহিত করে।


অক্টোবরের মাঝামাঝিতে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘তোমার জন্য মরতে পারি’ ছবিটি পরিচালনা করেছেন সাফি ইকবাল। তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলা এ পরিচালক বরাবরই সুস্থ ছবি নির্মাণের পক্ষে। আর বিভিন্ন কারণে ঢাকাই ছবিতে যখন জনপ্রিয় নায়ক-নায়িকাদের জুটি একের পর এক ভেঙে যাচ্ছিল তখনই এ ছবির মাধ্যমে শাকিব-অপু জুটি দর্শকদের অনেক কাছাকাছি চলে যান। জুটি প্রথা একটি ট্রেড হয়ে যাওয়ার কারণে দর্শকরা জুটির বাইরের কাউকে খাপছাড়া মনে করেন। শুধু এ জন্যই নয়, অপু বিশ্বাস এ ছবিতে তার অনবদ্য অভিনয়ের মাধ্যমে জয় করে নেন অগণিত ভক্তের হৃদয়ও।
এ বছর ব্যাখ্যাতীত আলোচিত আর একটি ছবির নাম আহা!। ১৪ অক্টোবর মুক্তি পাওয়া ইমপ্রেস টেলিফিল্মের এ ছবিটি পরিচালনা করেছেন স্থপতি এনামুল করিম নির্ঝর। এটি তার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘø চলচ্চিত্র।
চেনা শহরের অচেনা মানুষ কিংবা অচেনা শহরের চেনা মানুষের সম্পর্কের নতুন সমীকরণের হিসাব নিয়ে নির্মিত ছবিটি মুক্তির পরপরই সাড়া ফেলে দেয় দেশ ও দেশের বাইরে। ইতোমধ্যেই মিউনিখ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘নিউ এশিয়ান সিনেমা’ বিভাগে প্রদর্শনের জন্য মনোনীত হয়েছে ছবিটি। সম্প্রতি কলকাতায় প্রদর্শিত হওয়ার পর মিসরের কায়রোতেও প্রদর্শিত হতে যাচ্ছে ৩১তম কায়রো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে।
নেশার পিল ইয়াবা অনেকটা অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে আলোচনায় এনে দিয়েছিল বেশ কিছু তারকাকে। এর ফলে একটা সময় অনেক তারকা মোবাইল ফোন বন্ধ করে নিজেকে লুকিয়ে রাখতে বাধ্য হয়েছিলেন। তবে ঘটনা কিংবা রটনা যা-ই হোক না কেন এর ফলে তারকারা যে অনেকটা চাপের মধ্যে ছিলেন তা বলাই বাহুল্য।


অনেকটা ভালো-খারাপ মিলিয়ে ধীরে ধীরে চলে গেল ২০০৭ সাল। অনেকের উত্থান আবার কারো পতনের নীরব সাক্ষী হয়ে থাকবে ২০০৭ সাল।


**************************
লেখকঃ  তামিম হাসান
তথ্য সংগ্রহঃ তারেক ফিরোজ ও সোহেল অটল
দৈনিক নয়াদিগন্ত, ০১ জানুয়ারী ২০০৭