- Home
- বিজয় দিবসঃ ১৬ই ডিসেম্বর
- ফিরে দেখা বিজয় দিবস
ফিরে দেখা বিজয় দিবস
- By Article Poster
- Published 12/30/2007
- বিজয় দিবসঃ ১৬ই ডিসেম্বর
- Unrated
১৯৭১-এর ১৬ ডিসেম্বরের সঙ্গে আজকের বিজয় দিবসের কী দুস্তর ফারাক! সেটাই স্বাভাবিক। সময়ের ব্যবধানে পরিবর্তন তো হবেই। কোনোকিছুই এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে না। তাই বলে এতটা ফারাক?
১৯৭১ সালের ষোলই ডিসেম্বর আমি ছিলাম কলকাতায়। তখনকার আমাদের সংগঠন ‘কমিউনিষ্ট বিপ্লবীদের পুর্ববাংলা সমন্বয় কমিটির’ নেতৃত্বে বাংলাদেশের ১৪টি ঘাঁটি এলাকায় যুদ্ধ চলছিল। সমন্বয় করা হতো তিনটি কেন্দ্র থেকে। শিবপুর (ঢাকার নিকটবর্তী) কলকাতা ও আগরতলা। শিবপুরের হেডকোয়ার্টারে সর্বক্ষণ থাকতেন আবদুল মান্নান ভুঁইয়া। কাজী জাফর আহমদ, রাশেদ খান মেনন ও আমি ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যাতায়াত করতাম, রাজনৈতিক নির্দেশনা ও সশস্ত্র ঘাঁটিগুলোর মধ্যে সমন্বয় করতাম। ‘১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণার পর আমরা আর ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যাতায়াত করতে পারলাম না। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে আমার যাওয়ার কথা ছিল সাতক্ষীরার তালা থানায়। কিন্তু পারলাম না। কলকাতায় আটকা পড়ে গেলাম। কলকাতায় আমরা থাকতাম ভারতের মার্কসবাদী কমিউনিষ্ট পার্টির আশ্রয়ে। ১৬ ডিসেম্বর সকাল দশটার দিকে পার্ক সার্কাসের মোড়ে আওয়ামী লীগ নেতা জনাব জিল্লুর রহমানের (বর্তমানে পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি) দেখা পেলাম। তিনি বললেন, পাক আর্মি সারেন্ডার করেছে। ঠিক সেই সময় আমার ছোট ভাই হায়দার আনোয়ার খান ছিলেন শিবপুরে, তিনি নয় মাসই সেখানে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। আমার মা-বাবা ঢাকায় এক রকম আত্মগোপন করেছিলেন। আমার মা-বাবা ও আমার বোন ডোরা (তিনি ডাক্তার ছিলেন) শহরে বেরিয়েছিলেন পাক আর্মি সারেন্ডার প্রক্রিয়া দেখতে এবং সদ্য স্বাধীন দেশের মুক্ত বাতাসে প্রাণ ভরে নিঃশ্বাস গ্রহণ করতে। তারা গাড়ি করে যাচ্ছিলেন ধানমন্ডির ১৮ নম্বর রোড দিয়ে যেখানে বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে আটক রাখা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী ও দুই কন্যা (শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা) পাক আর্মির পাহারাধীনে গৃহবন্দি ছিলেন। ১৬ ডিসেম্বর হানাদার বাহিনীর সবাই আত্মসমর্পন করেছিল জেনারেল নিয়াজীর নেতৃত্বে। কিন্তু ধানমন্ডির ১৮ নম্বর রোডের ওই বাড়িতে অবস্হানরত পাকবাহিনীর ইউনিটটি আত্মসমর্পণ করতে চায়নি। তারা ভারতীয় বাহিনীর কাছে দু’দিন পর আত্মসমর্পণ করে।
এসব কথা জানতেন না আমার মা-বাবা বা বোন। মনে করেছিলেন এখন তো দেশ শত্রুমুক্ত হয়েছে। তারা ধানমন্ডির ১৮ নম্বর রোডের সেই বাড়িটির সামনে উপস্হিত হয়েছিলেন যেখানে বঙ্গবন্ধু পরিবার আটক ছিলেন। বাড়িতে অবস্হানরত পাক জল্লাদ বাহিনীর লোকেরা গুলি করে। তখনই মারা যান আমার বোন ডাক্তার আয়েসা চৌধুরী। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছিলেন আমার মা।
এ সবই ঘটেছিল ১৯৭১ সালের ষোলই ডিসেম্বর। ওই বিজয়ের দিনেও ঢাকায় এরকম আরো অনেকে নিহত হয়েছিলেন। তার আগের নয় মাসে তো বয়ে গেছে রক্তস্রোত, বীভৎস অত্যাচার, গণহত্যা ও ধর্ষণ। সব বেদনার কথা ভুলে বাংলার মানুষ সেদিন আনন্দ-উৎসবে মেতে উঠেছিল। মুক্তির আনন্দ, স্বাধীনতার আনন্দ।
দু’দিন পর ঢাকায় এসে আমি জানলাম, আমার বোন মারা গেছে, মা গুলিবিদ্ধ। একে একে খবর আসল, আরো মৃত্যুর খবর। গত নয় মাসে কে কোথায় মারা গেছে, তার সবটা জানা যায়নি। কিন্তু এত বেদনার মধ্যেও আমার মন আনন্দে মেতে উঠেছিল। সমগ্র জনগণ নয় মাসের ভয়াবহ মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা ভুলে নতুন স্বপ্নে বিভোর ছিল, ভবিষ্যতের স্বপ্ন, রঙিন স্বপ্ন, সম্ভাবনার স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন এখন আর নেই। সেই বাস্তবতাও নেই। তাই ১৯৭১-এর ষোলই ডিসেম্বর আর ২০০৭ সালের বিজয় দিবসের মধ্যে এতটা ফারাক। সেদিন ছিল নতুন দেশ গড়ার স্বপ্ন। সবটাই ভবিষ্যৎ। আজ রয়েছে বিগত ৩৬ বছরের অভিজ্ঞতা। সেই অভিজ্ঞতা মোটেও ভালো নয়। সেদিন অবশ্য ছিল উচ্ছ্বাসের প্রাবল্য, যার মধ্যে ভবিষ্যতে দেশটি কেমনভাবে চলবে, কী হবে তার অর্থনীতি, এসব ভালোভাবে খুঁটিয়ে দেখার অবকাশ পাওয়া যায়নি। আজ সেই রকম উচ্ছ্বাস আশা করা যায় না, তা কাম্যও নয়। সেদিন কতকগুলো আদর্শবোধ দারুণভাবে কাজ করেছিল-সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা। আজ তার বিরুদ্ধ শক্তি বেশ প্রবল হয়ে উঠেছে; যদিও সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার মহান আদর্শ এখনো জনগণকে বিশেষ করে শ্রমজীবী জনগণকে আকৃষ্ট করে।
৭১ সালের যুদ্ধকে স্বাধীনতা যুদ্ধ না বলে মুক্তিযুদ্ধ বলা হয়। এর একটা কারণও আছে। স্বাধীনতা বলতে ভৌগোলিক, রাজনৈতিক স্বাধীনতা বোঝায়, পতাকার বদল মাত্র। যদিও সেই রাজনৈতিক স্বাধীনতা কোনো জাতির জীবনে খুবই গুরুত্বপুর্ণ। তবুও আমরা চেয়েছিলাম আরো বেশিকিছু। সে জন্য বলা হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ। সামগ্রিক মুক্তি; অর্থনৈতিক শোষণ, শ্রেণী শোষণসহ সব শোষণ থেকে মুক্তি। সেটা তো সমাজতন্ত্র ছাড়া হতে পারে না। সমাজতন্ত্রের মধ্যেই রয়েছে গণতন্ত্র। কেননা অর্থনৈতিক সাম্য ছাড়া প্রকৃত গণতন্ত্র হতে পারে না। আর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ধর্মনিরপেক্ষতা তো থাকতেই হবে। স্বাধীনতার ঊষালগ্নে মানুষের আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্নের মধ্যেই ছিল সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার চেতনা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বলতে তাই-ই বোঝায়।
স্বাধীনতার অল্পদিনের মধ্যেই একে একে এসব মহান আদর্শ পরিত্যাগ করা হয়। কারণ সমাজতন্ত্র নির্মাণ করবে যে শ্রমিকশ্রেণী তারা রাষ্ট্রক্ষমতায় আসেনি। রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছিল উঠতি ধনিকশ্রেণী। অনেক রাজনৈতিক উত্থান-পতন ও বহুবার সরকার পরিবর্তন সত্ত্বেও ওই শ্রেণীই এখনো পর্যন্ত রাষ্ট্রক্ষমতায় রয়ে গেছে। ধনিকশ্রেণী বিভিন্ন বুর্জোয়া রাজনৈতিক দলে বিভক্ত রয়েছে। তাদের মধ্যে ক্ষমতার লড়াই থাকলেও, লুটের ভাগ কে কতটা নেবে, তা নিয়ে নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব থাকলেও রাষ্ট্র ব্যবস্হাটা ধনিকশ্রেণীর শোষণ ও লুণ্ঠনের যন্ত্র হিসেবে রয়ে গেছে।
বস্তুত সমাজতান্ত্রিক আর্থ-ব্যবস্হা গড়ার উদ্যোগ কোনোদিনই ছিল না। বিশেষ পরিস্হিতিতে স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানি মালিকানাধীন শিল্প, ব্যাংক বীমা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তদানীন্তন সরকার রাষ্ট্রায়াত্ত করতে বাধ্য হয়। সেটাকেই সমাজতন্ত্র বলে চালিয়ে দেয়া হয়েছিল। আসলে রাষ্ট্রায়ত্ত খাতকে ব্যবহার করা হয়েছিল রাষ্ট্রীয় সম্পদকে বেপরোয়া লুণ্ঠনের হাতিয়ার রুপে। এভাবে সদ্য ক্ষমতালব্ধ উঠতি ধনিকশ্রেণী তাদের সম্পদের স্ফীতি ঘটায়। পরবর্তী সময়ে এই ধনিকশ্রেণীর সম্পদের উৎস হয়ে দাঁড়ায় বৈদেশিক ঋণ। বৈদেশিক ঋণ ও সাহায্যের বড় অংশ আত্মসাৎ করে অসৎ রাজনীতিবিদ, আমলা ও ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবুল বারকাতের হিসাব মতে এর পরিমাণ বৈদেশিক ঋণের এক-তৃতীয়াংশ। এই ঋণ কিন্তু আমাদের পরিশোধ করতে হবে। এখনো করছি। পরিশোধ করছে এই দেশের সাধারণ মানুষ, যারা ঋণের খুবই সামান্য অংশ কার্যত ব্যবহার করতে পারে। আমাদের জাতীয় আয়ের এক-চতুর্থাংশ চলে যায় ডেট সার্ভিসের জন্য। বৈদেশিক ঋণ থাকে নানাভাবে অর্থনৈতিক ও অলিখিত রাজনৈতিক শর্তযুক্ত। বস্তুত আমাদের ঋণের বোঝা বাড়ছে, কিন্তু দেশের প্রকৃত কল্যাণ হচ্ছে না। তবু আমাদের শাসকশ্রেণী বছরের পর বছর বিদেশি ঋণ নিতে আগ্রহী। কারণ ওই ঋণের টাকার বড় অংশ আত্মসাৎ করে জনগণের অতিসংকীর্ণ স্তর লুটেরা ধনিকশ্রেণীর স্ফীতি ঘটছে। এভাবে আমরা একই সঙ্গে হারাচ্ছি অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব। আর সমাজতন্ত্রের কথা তো এখন একমাত্র বাম দলগুলো ছাড়া কেউ উচ্চারণ করে না। স্বাধীনতা-পরবর্তী সমাজতন্ত্রের ্লোগান তো ছিল বড় রকমের ধাপ্পাবাজি। কিন্তু গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার অবস্হাটা কেমন দাঁড়াল? হায়! সেও এক করুণ অভিজ্ঞতা। গণতন্ত্রের স্বাদ এই দেশের জনগণ কোনোদিনই গ্রহণ করতে পারেনি। প্রথমে যাত্রা আরম্ভটা ভালোই ছিল। স্বাধীনতার এক বছরের মধ্যে আমরা রচনা করতে পেরেছিলাম একটি গণতান্ত্রিক সংবিধান। কিন্তু আরেক বছর যেতে না যেতেই, সেই সংবিধানের গণতান্ত্রিক ধারাসমুহ ছেঁটে ফেলা হলো। যোগ করা হলো জরুরি অবস্হার বিধানের ধারা। সংবিধানের সেই ধারা মতেই এখন দেশ শাসিত হচ্ছে জরুরি অবস্হার বিধান অনুযায়ী। ১৯৭৫ সালে প্রবর্তিত হলো বাকশাল ব্যবস্হা, একদলীয় শাসন ব্যবস্হা। এই ব্যবস্হা অবশ্য স্হায়ী হতে পারেনি। কিন্তু হায়! একদলীয় ব্যবস্হার বদলে আমরা পেলাম সামরিক শাসন। তারপর সংবিধান নিয়ে কত পরীক্ষা-নিরীক্ষা হলো। এসব পরীক্ষার মোট ফল দাঁড়ায় গণতন্ত্রকে বাতিল করা। বহুদলীয় ব্যবস্হা ও একদলীয় ব্যবস্হা, পার্লামেন্টারি ও প্রেসিডেন্টশিয়াল ব্যবস্হা, সামরিক শাসন ও বেসামরিক শাসন, বেসামরিক লেবাসে সামরিক শাসন, কত রকম ব্যবস্হার মধ্য দিয়ে আমরা গেলাম। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্র থেকে বঞ্চিত রয়ে গেল জনগণ। এর মধ্যে হত্যা, ক্যু ইত্যাদির ঘটনাও কম নয়। দুই দুইবার প্রেসিডেন্ট হত্যা হয়েছে। ক্যু ও ক্যু প্রচেষ্টাও হয়েছে একাধিকবার। এক ধরনের রাজনৈতিক অস্হিরতা ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে কেটেছে সাড়ে তিন দশক। সেই অনিশ্চয়তা ও সংকট এখনো কাটেনি। বরং রাজনৈতিক সংকট ঘনীভুত হয়েছে।
আমাদের শাসকশ্রেণী লুটেরা ধনিকশ্রেণী একদিকে প্রধানত উৎপাদনবিমুখ, অপরদিকে সাম্রাজ্যবাদনির্ভর। এজন্য রাজনৈতিক ভাষায় এদের বলা হয় মুৎসুদ্দি বুর্জোয়া। এই বুর্জোয়া শ্রেণীর পক্ষে গণতন্ত্র উপহার দেয়াও সম্ভব নয়। তাই বাংলাদেশে ৩৬ বছরেও গণতন্ত্র আসেনি। অন্যদিকে এরা রাজনৈতিকভাবেও অপরিপক্ক ও অযোগ্য। তাই রাজনৈতিক সংকট লেগেই আছে। সংকটের চরম প্রকাশ ঘটল গত বছর থেকে। গত বছর অক্টোবর থেকে এমন গভীর ও জট পাকানো রাজনৈতিক সংকট দেখা দিয়েছিল যে, এমন সংকটের কোনো পুর্বঅভিজ্ঞতা আমাদের ছিল না। এরই পরিণতিতে এল এগারই জানুয়ারির পরিবর্তন, যা কাঙ্ক্ষিত না হলেও বোধ হয় নির্দিষ্ট পরিস্হিতিতে অনিবার্য ছিল। সংকট কেটে গেছে এমন মনে করার কোনো কারণ নেই। বরং বড় অনিশ্চিত পথে আমরা পা বাড়িয়েছি। হায়রে! দুর্ভাগা বাংলাদেশ।
ধর্মনিরপেক্ষতা ছিল আমাদের দেশে জাতীয়তাবাদের অন্যতম মুল ভিত্তি। যে ধর্মভিত্তিক সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে, দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তানের জন্ম, তাকে খন্ডন করেই তো বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, যার পরিণতিতে ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ। কিন্তু সেই ধর্মনিরপেক্ষতা এখন নির্বাসিত। স্বাধীনতা পরবর্তীকালে শাসক বুর্জোয়া দলগুলো একে একে আপস করেছে সাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় মৌলবাদী শক্তির সঙ্গে। সবশেষে আমরা দেখলাম যুদ্ধাপরাধী ও মৌলবাদী শক্তি সরকারের অংশীদার হয়ে বসল। বিজয়ী জাতির এত বড় পরাজয় কল্পনাও করা যায় না।
তাই ৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর ও আজকের বিজয় দিবসের মধ্যে এত দুস্তর ফারাক। তবু আমরা আশা পরিত্যাগ করতে চাই না। আমাদের ঐতিহ্যর মধ্যে রয়েছে গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা। সমাজতান্ত্রিক সংগ্রামও আমাদের ইতিহাসে বিশিষ্ট স্হান দখল করে আছে। এমন ঐতিহ্য রয়েছে যে জনগণের, তার উপর আমরা এখনো আস্হা রাখতে পারি। অর্থনীতি ও রাজনীতিকে পুনর্গঠিত করতে হবে ৭১-এর অর্জিত বিজয়কে পরিপুর্ণ বিজয়ে রুপান্তরিত করার জন্য। আর সেটা হবে বাম গণতান্ত্রিক বিকল্প ধারণার ভিত্তিতে।
**************************
লেখকঃ হায়দার আকবর খান রনো
দৈনিক আমারদেশ, ১৬ ডিসেম্বর ২০০৭