আমাদের দেশের এই যে পরিস্থিতি একে সমাজ-বিজ্ঞানের ভাষায় একটা সংকটকাল বলে অভিহিত করা যেতে পারে। তখনই একটা কাল সংকটের সম্মুখীন- যখন মানবজীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত নানাবিধ সমস্যার কোন সহজ সমাধান অসম্ভব এবং সেগুলো একটার সঙ্গে আরেকটা ওতপ্রোতভাবে মিলে মিলে একটা যুগে মানুষের ভদ্র জীবনযাপন প্রায় অসম্ভব করে তোলে। সকলেই স্বীকার করবেন, এমন কি সরকার বাহাদুরের মন্ত্রী বাহাদুরেরা পর্যন্ত সভা-সমিতিতে বলে থাকেন আমাদের খাদ্য-সংকট, বস্ত্র-সংকট, ওষুধ-সংকট, শিক্ষা-সংকট এবং সর্বোপরি চরিত্র-সংকট বড় তীব্রভাবে দেখা গিয়েছে।

সরকারি নেতা এবং মন্ত্রী বাহাদুরেরা স্বাভাবিক বুদ্ধিবলে এই সংকটকে চিনে নিয়েছেন তা সত্যি নয়, সংকট নিজেই তীক্ষ্নভাবে গুঁতো দিয়ে চিনিয়ে দিয়েছে- এই যে আমরা আপনাদের রাজত্বে দিনে দিনে শক্তি সঞ্চয় করছি এবং আপনাদের ঝাড়ে বংশে নির্মূল না-করা পর্যন্ত শক্তি সঞ্চয় করতেই থাকব। কেমন করে একটু বলি। একবার ধরুন, একটা ডাকাতের দল ধরা পড়ল। পুলিশ থানায় নিয়ে তাদের নাম এবং পিতৃনাম জিজ্ঞেস করে আবিষ্কার করল যে, এরা সব রাজপুত্রের দল। আরেকবার ধরুন ধরা পড়ল, আরেক দল চোরাচালানি, এবার পুলিশ আরো সবিস্ময়ে আবিষ্কার করল যে, এরা সকলেই পূর্বোক্ত রাজ-পুরুষদের বশংবদ আত্মীয় এবং ভাইয়ের দল। ঐভাবে ধরা পড়তে থাকল। এসব খবর কতদিন আর গোপন থাকে। পত্রিকায় কানাঘুষো চলছিল প্রথমে, তারপরে খবর ফলাও করে ছাপা হতে থাকল। এবার রাজ-পুরুষেরা বাধ্য হয়ে স্বীকার করলেন, হঁ্যা, এটা সংকটকাল- নইলে আমাদের ছেলেপুলে, ভাইপো, ভাগ্নে, যাদের অঢেল খাওয়ার পরবার আছে তারা কেন এ জাতীয় অভব্য কাজে অংশ নেবে বা নেতৃত্ব দেবে। এরকমভাবে অন্যান্য সংকটগুলোও তাদের বিরাট বিরাট শরীর নানা অছিলায় রাজ-পুরুষদের দেখাতেই থাকল।

প্রথমে এসব শুনে তারা চটে যেতেন, তাদের বন্ধুরা আরো বেজায় চটতেন, একবাক্যে বলে দিতেন- এসব চীন এবং পাকিস্তানের অনুচরদের স্বাধীনতা বিনাশী ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই নয়। বলতেন, জনগণের প্রাণপ্রিয় দাবি সমাজতন্ত্রকে বানচাল করার জন্যই নেহায়েৎ উদ্দেশ্যমূলকভাবে এসব প্রচার করা হচ্ছে। সেই সরকার এবং তার কনিষ্ঠ অংশীদারটি মিলে যখন সমাজতন্ত্র বাংলাদেশে পুরোপুরি পাকাপোক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলল, সংকটগুলোও সাবালক হয়ে চোরাগলি থেকে রাজ-পুরুষদের সামনা-সামনি এসে দাঁড়িয়ে বলল, ‘এই যে আমরা।’

তারপর থেকে সমানেই খাদ্য-সংকট, বস্ত্র-সংকট, ওষুধ-সংকট, শিক্ষা-সংকট, যুব-সংকট ইত্যাদি সংকটমালার নাম করে সরকারি বেসরকারি সমস্ত মানুষ তারস্বরে চিৎকার জুড়ে দিল। ফাঁদে ধরা ইঁদুর যেমন যত নড়াচড়া করে তত ফাঁসটা শক্ত হয়ে আটকায়, তেমনিভাবে উপকথার দৈত্যের মত সংকটের শরীর তাদেরই চোখের সামনে প্রসারিত হতে হতে বঙ্গোপসাগরের মতন বিশাল আকার ধারণ করল। রাজ-পুরুষেরা সকলে ধৈর্য এবং দেশপ্রেম দিয়ে জনগণকে এই সংকটের মোকাবেলা করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানালেন- শুনে সংকটেরা মুচকি মুচকি হাসল। রাজ-পুরুষদের মধ্যে যিনি জন্মগতভাবে রাজচক্রবর্তী মনে করেন। তিনি হুঙ্কার ছাড়লেন এবং প্রচণ্ডভাবে ধমক দিলেন, এইবার সংকটেরা খিলখিল করে হেসে উঠল।

কারণ যে সমস্ত রাজ-পুরুষ জাতীয় সংকট রোগের চিকিৎসকের ভূমিকায় অভিনয় করছেন ও কর্মকর্তার কল্যাণ হয়েছে এবং কিছু শিল্প-কারখানা, সিনেমা হল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসকদেরও কল্যাণ হয়েছে; কিন্তু এর দ্বারা মুক্তিযোদ্ধা, সাধারণের কল্যাণ যে কতটা হয়েছে তা হলপ করে বলা মুশকিল। এই ট্রাস্ট্রের তরফ থেকে কিছু মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে সাহায্য করা হচ্ছে বটে, কিন্তু মোট মুক্তিযোদ্ধার পরিমাণের তুলনায় এই সাহায্য-প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা উল্লেখেরও অনুপযুক্ত।

ক্ষমতাসীন সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি এই সুপরিকল্পিত অবহেলার দ্বারা জাতির সংগ্রামী চেতনাকে স্তব্ধ করে দেয়ার প্রয়াস পাচ্ছে। কিন্তু এটা কতটা সম্ভবপর হবে তা প্রমাণ করবে আগামীদিনের আন্দোলনের ইতিহাস।

পাকিস্তান থেকে প্রত্যাগত বাঙালিদের ব্যাপারেও সরকারি অনীহা একান্ত দুর্ভাগ্যজনক। পাকিস্তান আমলে যেহেতু পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় রাজধানী এবং সামরিক বাহিনীসমূহের হেড কোয়ার্টার্স ছিল পশ্চিম পাকিস্তানে, সেহেতু কয়েক লক্ষ বাঙালি কার্য উপলক্ষে পশ্চিম পাকিস্তানে অবস্থান করছিলেন। এদের অধিকাংশই শুধু উচ্চপদস্থ ও দায়িত্বশীল কর্মচারীই ছিলেন না; উপরন্তু ফেডারেল সরকারের কর্ম-পদ্ধতি সম্পর্কেও অভিজ্ঞ ছিলেন। স্বভাবতই প্রশাসনসহ অন্যান্য সরকারি, আধা-সরকারি দফতরসমূহের কার্যকারিতা শক্তির হাত থেকে স্বাধীন হলে কতগুলো অনিবার্য সংকট আপনা-আপনিই দেখা দিয়ে থাকে। পরিচালনা শক্তি যতই সুদক্ষ হোক-না কেন, এ সংকট অনিবার্যভাবে এসে থাকে। কোনভাবেই এড়িয়ে যাওয়া যায় না। কিছু সময়ের পরে সে সদ্য স্বাধীন রাষ্ট্র যখন নিজস্ব একটা কক্ষপথ তৈরি করে ফেলে আস্তে আস্তে সেগুলোর বিলয় ঘটে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শক্তি চলে গেলে ক্ষমতা হস্তান্তরের পরে এ রকম একটা বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছিল। তারপরে ভারত-পাকিস্তানে শান্তি ফিরে আসে এবং জনজীবনে যতই অপ্রচুর হোক-না কেন, এক ধরনের নিশ্চিন্তবোধ এসেছিল। সমাজতান্ত্রিক পুনর্গঠনের বেলায় বিশৃঙ্খলা, সামাজিক শক্তিগুলো পারস্পরিক দ্বন্দ্ব-সংঘত সঞ্জাত নৈরাজ্য অনেক সময় চরমরূপ পরিগ্রহ করে। কেন না, যেখানে একটি দল সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে আরেকটি দলকে পরাজিত করে ক্ষমতা দখল করে এবং শোষকদের সমস্ত রাষ্ট্র যন্ত্রটা শোষিতদের দখলে নিয়ে আসার জন্য কঠোর সংগ্রাম করতে হয়। তার ফলে কিছুদিন সমাজের চেহারা বড়ই আগোছালো, বিশৃঙ্খল এবং এবড়ো থেবড়ো অবস্থায় থাকে। এমনও হয়ে থাকে, কোথাও কোথাও শ্রমিকশ্রেণীর পার্টি মুখ্যশত্রম্নকে পরাজিত করার পর সমস্তটা আয়ত্তের মধ্যে নিয়ে আসবার জন্য বছরের পর বছর লড়াই করতে হয়। কিন্তু একটি কথা সত্য যে, ক্ষমতার পালাবদলের প্রাথমিক পর্বের নৈরাজ্যের মধ্যেই জনগণের সুখী এবং সমৃদ্ধ জীবনের প্রতিশ্রুতি আত্মগোপন করে থাকে। ক্রমশ জনগণের শক্তি প্রতিরোধী শক্তিকে পরাজিত করে সংহত হতে থাকে। দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা এবং জনগণের জীবনে সমৃদ্ধি ফিরে আসে।

আমাদের দেশে কি ব্যাপার ঘটেছে সেদিকে একটু দৃষ্টিপাত করা যাক। উনিশ শ’ একাত্তর সালের ষোলই ডিসেম্বরের পরে ভারতীয় বাহিনীর পেছন পেছন আওয়ামী লীগের লোকেরা বাংলাদেশে প্রবেশ করে ক্ষমতার আসনে গঁ্যাট হয়ে বসে। তাদেরকে দেশের অভ্যন্তরে কোনো রকমের বিরোধিতার সম্মুখীন হতে হয়নি। পাছে অন্যরকম কোনকিছু ঘটে এজন্য অনেকদিন পর্যন্ত ভারতীয় বাহিনী তাদের চারদিকে পাহারা দিয়েছে। নিরুপদ্রবে যাতে একটি দল রাজ্য ভোগ করতে পারে, সেজন্য প্রকৃত সশস্ত্র সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছেন। তাঁদের অনেককেই কারাগারের মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে পার্টির লোকেরা দেশে প্রবেশ করে মনের আনন্দে গুলি ছুঁড়ছে, অনেক সময় দেশের নাম করে ব্যক্তিগত শত্রুদের নিঃশেষ করে দেবার জন্য এবং বিহারিদের পরিত্যক্ত সম্পত্তি দখল করার জন্য রাইফেল, এলএমজি’র ব্যবহার করলেও বিরোধিতার কারণে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার তাদের একেবারেই করতে হয়নি। পাকিস্তানি সৈন্যদের আগেই ভারতে চালান করে দেয়া হয়েছে এবং কলাবরেটররা অনেকে ধরা পড়েছে এবং অনেকে সঙ্গে সঙ্গেই মারা পড়েছে। তবু টু-শব্দটি উচ্চারণ করার কোন মানুষ ছিল না। তারা ইচ্ছেমতো লুট-পাট করেছে। পরিত্যক্ত বাড়িঘর যার যা পছন্দ হয়েছে দখল করে নিয়েছে। গাড়ি-ঘোড়া যা পেয়েছে নিজেরা নিয়ে নিয়েছে। দেখা গেল, উনিশ শ’ একাত্তরের আগে যাদের ধন-সম্পদ চরিত্র এবং বিদ্যা এসবের কিছুই ছিল না, বাহাত্তরের মধ্যে দেখা গেল তারা একেকজনে দু’তিনটা করে প্রাইভেট কার রাখে, চার পাঁচটা করে বাড়ির মালিক এবং নগদ টাকার অন্ত নেই। শুধু লুট-পাট নয়, সরকারি আইনের সুযোগ নিয়ে লাইসেন্স-পারমিট ইত্যাদি বাগিয়ে দলের নিরীহতম মানুষটিও টাকার গাছে পরিণত হয়েছে।

এরা একবার উনিশ শ’ একাত্তর সালে তথাকথিত অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের সময় বিহারিদের গাড়ি-বাড়ি, টাকা-পয়সা লুট করেছে, তাদের হত্যা করেছে। তাদেরই একাংশ পাকিস্তানি সৈন্যের আক্রমণের পর ব্যাংক এবং ট্রেজারির কোটি কোটি টাকা লুট করে ভারতে পালিয়ে গিয়েছিল। এই আওয়ামী লীগের আরেকটি ক্ষুদ্র অংশ দেশের ভেতরে থেকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহায়তা করেছে। আর কেউ কেউ ভারতীয় সৈন্যের পিছু পিছু দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে বাড়ি গাড়ি দখল, দোকান-পাট হস্তগত করা থেকে শুরু করে নারী নির্যাতন পর্যন্ত সমস্ত কাজ অবলীলায় সম্পন্ন করে দেশপ্রেমের এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এতেও শেষ নয়। দেশের যা কিছু সম্পদ যেমন পাট, চামড়া ইত্যাদি এবং অন্যান্য জিনিস অবশিষ্ট ছিল রাতারাতি ভারতে পাচার করে দিয়ে বন্ধুত্বের মর্যাদা রক্ষা করল। দেশে কল-কারখানা নেই বিশেষ, তবু অল্প-স্বল্প যা আছে তার যন্ত্রপাতি খুলে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের কাছে বেচে দিল। আওয়ামী লীগাররা যেখানেই হাত দেয় সোনার বাংলার সোনা তাল তাল তাদের হাতে উঠে আসতে থাকল। এত লুট তবু সোনার বাংলার সম্পদ ফুরায় না। তারপরও কল-কারখানা যেগুলো ছিল সেগুলোতে ধরে ধরে নিজের দলের লোকদের চালক বানিয়ে সম্পূর্ণভাবে বিকল করে দিল। বাস্তবিকই পল্টনের এক হুংকারে বাংলাদেশে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেল। সমাজতান্ত্রিক পদ্ধতিতে উৎপাদন ক্রিয়া চালু করার ভার যাদের ওপর দেয়া হল তারা নিজেরা লুট করল, কারণ তাদের একমাত্র লুটের অভিজ্ঞতাই আছে। কল-কারখানা চালাবার অভিজ্ঞতা তাদের কস্মিনকালেও ছিল না। এই বেপরোয়া লুটপাটে পাছে কর্তাব্যক্তিরা রাগ-বিরাক্তি প্রকাশ করেন, তাই কর্তাদের আসা-যাওয়ার পথে শ্রমিকদের দিয়ে জিন্দাবাদ ধ্বনি দেয়াবার ব্যবস্থা করলেন। কর্তারা খুশি হয়ে ব্যাংক থেকে তিন মাসের মাইনে আগাম দেয়ার নির্দেশ দিলেন, ও-দিকে কলকারখানা বন্ধ রইল তো রইলই। দেশে টাকা-পয়সার দারুণ অভাব, তাই বস্তা বস্তা কাগজের নোট ছেপে বাজারে ছেড়ে দেয়া হল। টাকা ছেপে বাজারে চালু করার খেলাটি এতই চমৎকার যে আমাদের ভারতীয় বন্ধুরাও তাদের দেশে মুদ্রিত এক টাকার অনুকরণে জাল নোট তৈরি করে বাংলাদেশের বাজারে ছেড়ে দিলেন। তাঁরা দীর্ঘ নয় মাস কালব্যাপী বাংলাদেশ সরকারের আতিথ্য দান করেছে, রাজনৈতিক নেতা এবং মন্ত্রী মহোদয়দের সেবা করেছে, নিশ্চয়ই তাঁদের সে অধিকার আছে।

এসব নিয়ে কেউ যদি হঁ্যাচ্ছো করত, অমনিই বলা হত কলাবরেটর, রাজাকার, আলবদর, চীন এবং পাকিস্তানের গুপ্তচর। কল্পনায় তখন একটা মুসলিম বাংলার জন্ম দিয়েছিলেন। সরকারের কোন নীতি এবং কার্যপদ্ধতির কোন সমালোচনা করলেই তার নির্ঘাৎ মৃত্যু। বিচারকেরা আদালত পর্যন্ত টেনে নেবার কষ্টও স্বীকার করবে না। এত নির্ভুল বিচারক। ‘গণকণ্ঠ’, ‘হক-কথা’, ‘লাল পতাকা’, স্পোকসম্যান’, ‘মুখপত্র’ ইত্যাদি পত্রিকা একটু একটু করে সত্য কথা বলার জন্য মুখ খুলছিল, আওয়ামী লীগ সরকার পত্রিকাগুলো এবং সংশিস্নষ্ট সম্পাদকবৃন্দের কি অবস্থা করেছে আশাকরি দেশের মানুষ সে বিষয়ে ওয়াকেবহাল আছেন। সরকার যখন এ সকল মহৎকর্ম নির্বিঘ্নে করে যাচ্ছিল তাদের জুনিয়র পাটনারটি পরমানন্দে বগল বাজাচ্ছিল। তারা বলল, ঠিক করছে সরকার। যারা ভারত এবং রাশিয়ার সদিচ্ছাতে বিশ্বাস করে না তারা অতি খারাপ লোক- এত খারাপ যে নিশ্চয়ই আলবদর, রাজাকার মুসলিম বাংলা এবং চীনের দালাল না হয়ে যায় না। তাদের ভাষায় একমাত্র আমরা এবং আমাদের পাছায় কড়া লাথি মারতে পারে সে সরকার ছাড়া আর সকলেই সমাজতন্ত্র এবং স্বাধীনতার ঘোর শত্রু।

**************************
লেখকঃ আহমদ ছফা
দৈনিক ইত্তেফাক, ১৬ ডিসেম্বর ২০০৭