‘স্বাধীন’ এবং ‘স্বাধীনতা’ নামক দুটো শব্দের সাথে কম-বেশি সবাই পরিচিত। স্বাধীন শব্দটি উচ্চারিত হলে বাধাহীন, মুক্ত বা আজাদ কিংবা অনন্যনির্ভরতাকে বোঝায়। স্বাধীনতার অর্থ দাঁড়ায় বাধাহীনতা, আজাদি এবং স্বচ্ছন্দতা। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে একসাগর রক্তের বিনিময়ে। সেও আজ ৩৬-৩৭ বছর আগের কথা। কিন্তু বাংলাদেশ প্রকৃত অর্থে কতটা স্বাধীন এবং কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে ‘স্বাধীন’ এবং ‘স্বাধীনতা’র আলোকে সেই বিষয়টি পর্যালোচনার সময় এসেছে আজ।
‘স্বাধীন’ এবং ‘স্বাধীনতা’ নামক দুটো শব্দের সাথে কম-বেশি সবাই পরিচিত। স্বাধীন শব্দটি উচ্চারিত হলে বাধাহীন, মুক্ত বা আজাদ কিংবা অনন্যনির্ভরতাকে বোঝায়। স্বাধীনতার অর্থ দাঁড়ায় বাধাহীনতা, আজাদি এবং স্বচ্ছন্দতা। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে একসাগর রক্তের বিনিময়ে। সেও আজ ৩৬-৩৭ বছর আগের কথা। কিন্তু বাংলাদেশ প্রকৃত অর্থে কতটা স্বাধীন এবং কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে ‘স্বাধীন’ এবং ‘স্বাধীনতা’র আলোকে সেই বিষয়টি পর্যালোচনার সময় এসেছে আজ। অনেকেই জানেন যে, সে কালে দাসদের কোনো স্বাধীনতা ছিল না। আর এ জন্য পড়ালেখা বা শিল্পচর্চা দাসদের জন্য নিষিদ্ধ ছিল। আমাদের এ অঞ্চল অর্থাৎ ভারতীয় উপমহাদেশ একসময় জনশূন্য ছিল। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নানা জনগোষ্ঠীর লোকজন এসে এই অঞ্চলে বসতি স্থাপন করেন। এ অঞ্চলে সর্বশেষ আগমনকারীরা আর্য। আর্যরা বিদ্যা-বুদ্ধিতে অন্য সম্প্রদায়ের চেয়ে অগ্রসর ছিলেন। যুদ্ধ বিষয়েও অভিজ্ঞ ছিলেন। স্বাভাবিক কারণেই তারা পূর্বে আগত এবং শান্তিতে বসবাসরত অন্যান্য দরিদ্র সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হন এবং তাদের পরাজিত করে সব ক্ষমতা পাকাপোক্ত করেন। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে যাতে কোনোভাবেই তারা উপরে ওঠার সুযোগ না পায় সে জন্য বর্ণপ্রথা তৈরি করে তাদেরকে নিুবর্ণের মানুষ হিসেবে চিহ্নিত করেন। সেদিন থেকে আজ অবধি ভারতে বর্ণবৈষম্যের কারণে দরিদ্র জনগণ উচ্চবর্ণের হিন্দুদের দ্বারা নির্যাতিত ও নিষ্পেষিত হচ্ছেন। তাদের সন্তানরা উচ্চবর্ণের হিন্দুদের সন্তানদের সাথে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করার সুযোগ পায় না। তারা সব ক্ষেত্রেই অবহেলিত। স্বাধীন দেশে বসবাস করেও স্বাধীনভাবে তারা জীবনযাপন করতে পারেন না। উচ্চবর্ণের হিন্দুদের মতো সমান সুযোগ-সুবিধা পান না। প্রকৃত অর্থে যাদের স্বাধীনতা থাকে না তারা স্বাধীন দেশে বসবাস করলেও দাসদের মতোই পরাধীন জীবনযাপন করতে হয়। দাসরা স্বাধীন ছিল না বলেই তারা তৎকালে পড়ালেখা করার, শিল্পচর্চা করার অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। কিন্তু আজো বিশ্বের সর্বত্র দরিদ্র ও দুর্বল জনগোষ্ঠীকে পরাধীনের মতোই জীবনযাপন করতে দেখা যায়। একইভাবে দরিদ্র দেশগুলোকে ধনী বা বিত্তশালী দেশের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রনায়কদের দ্বারা শাসিত হতে দেখা যায়। স্বাধীন হলেও দরিদ্র দেশগুলো ধনী দেশগুলোর দাপটে পরাধীন দেশের মতোই চলতে বাধ্য হয়। এ বিষয়গুলো নিয়ে ইতিহাসবিদরা যেমন ইতিহাস রচনা করেছেন, শিল্পীরাও তেমনি শিল্প সৃষ্টি করেছেন।
আজ থেকে ৮৮ বছর পূর্বে ভারতের প্রখ্যাত প্রবাসী পত্রিকায় ‘মুসোলিনীর ক্ষমতা বিস্তার’ নামে একটি কাটুêন চিত্র ছাপা হয়েছে। ভারতীয় পত্রিকায় ছাপা হলেও কাটুêনটি কোনো ভারতীয় শিল্পীর আঁকা নয়। কাটুêনের শিল্পী একজন আমেরিকান। সে সময় আমেরিকা ইউরোপকে কোন দৃষ্টিতে দেখেছে কাটুêনটি তারই দৃষ্টান্ত। দৃষ্টান্ত দুর্বলের ওপর সবলের প্রভাব বিস্তারের। চিত্রে মুসোলিনীকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে এমন আকৃতি দেয়া হয়েছে যাতে স্পষ্ট হয় যে, তিনি অত্যন্ত শক্তিধর এবং সাধারণের চেয়ে অনেক অনেক গুণ বড়। ফলে তার বসার জন্য তৎকালের ইটালির রাজা ভিক্টোর ইমানুয়েলের চেয়ারটিসহ মোট ছয়টি চেয়ারের প্রয়োজন হয়েছে। এখানে ছয়টি চেয়ারই তৎকালের ইটালির রাজার সিংহাসনের প্রতীক। প্রথম চেয়ারটির এক কোণে ইটালির রাজা ভিক্টোর ইমানুয়েল উপবিষ্ট। মুসোলিনীর তুলনায় তাকে এতটাই ছোট করা হয়েছে যে, দেখে মনে হবে তিনি হাতের পুতুল। প্রথম যে চেয়ারটিতে ইটালির রাজা উপবিষ্ট রয়েছেন সেই চেয়ারটিকে মূল সিংহাসন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দ্বিতীয় চেয়ারটির পেছনে লেখা রয়েছে, ‘রাজনৈতিক দলসমূহ দলন’।
তৃতীয় চেয়ারকে সংবাদপত্রের প্রতীকরূপে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এর পেছনে লেখা রয়েছে ‘সংবাদপত্র দমন’। চতুর্থ চেয়ারের পেছনে লেখা আছে ‘বক্তৃতা-বিবৃতির স্বাধীনতা লোপ’। পঞ্চম চেয়ারে যা লেখা রয়েছে তার অর্থ হচ্ছে ‘সভা-সমিতি উপলক্ষে সমবেত হওয়ার অধিকার বিলোপ’। শেষ অর্থাৎ ষষ্ঠ চেয়ারের পেছনে লেখা রয়েছে ‘ধর্মবিষয়ক স্বাধীনতার ব্যাখ্যাত উৎপাদন’। অর্থাৎ এখানে মুসোলিনীকে রাজা ভিক্টোরের রাজ্য দখলকারী এবং রাজ্য দলন, রাজনৈতিক দলসমূহ দলন, সংবাদপত্রের দমন, বাক-স্বাধীনতা হরণ, সভা-সমিতি করার অধিকার হরণ এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা হরণের ভয়ঙ্কর প্রতীকরূপে চিত্রিত করা হয়েছে। যার জন্য তৎকালে ইটালিতে সবার স্বাধীনতা খর্ব হয়েছিল।
বর্তমান বিশ্বের ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রনায়ক বুশের কর্মকাণ্ডকে মুসোলিনীর সাথে তুলনা করা চলে। তার দাপটে বিশ্বের অপেক্ষাকৃত দরিদ্র ও দুর্বল রাষ্ট্রগুলো অসহায় হয়ে পড়েছে। আমেরিকার ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রনায়ক বুশের কাছে দরিদ্র ও দুর্বল রাষ্ট্রের রাষ্ট্রনায়করা যেন পরাজিত। পরাধীন। বুশের ইশারায় সবাইকে চলতে হয়। বুশের নির্দেশমতো তাদের কথা বলতে হয়। আফগানিস্তান, ইরাক ও পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
বাংলাদেশ বিশ্বের দরিদ্রতম দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। ফলে দরিদ্র দেশের সম্পদ লুণ্ঠন এবং প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে আজ্ঞাবহ করে রাখার জন্য বিভিন্ন দেশ নানাভাবে চেষ্টা করে চলেছে। এসব দেশের প্রতিনিধিরা প্রতিনিয়ত নানাভাবে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নানা ছুঁতায় হস্তক্ষেপ করে চলেছেন। সম্প্রতি বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স গীতা পাসির তৎপরতাকে অনেকেই বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের শামিল বলে আখ্যায়িত করেছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অনধিকার হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকতে বিদেশী কূটনীতিক ও মেহমানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। প্রকৃত অর্থে বাংলাদেশের একশ্রেণীর রাজনীতিবিদ ব্রিটিশদের ২শ’ বছরের গোলামি ও পদলেহনের অভ্যাস পরিত্যাগ করতে পারেননি। তারা কথায় কথায় বিদেশী প্রভুদের শরণাপন্ন হয়ে প্রজাসুলভ আচরণ করে থাকেন। ফলে বিদেশীরা বন্ধুর পরিবর্তে প্রভুর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে থাকেন। সাহায্য দানের নামে দেশের প্রভূত ক্ষতিসাধন করেন। সাহায্য প্রদানের ক্ষেত্রে এমন সব শর্ত আরোপ করেন, যাতে দেশের স্বাধীনতাই বিপন্ন হয়ে পড়ে। কিন্তু তার পরেও প্রভুভক্তরা বিদেশী প্রভুদের পদলেহন নীতির পরিবর্তন করেন না। একটু সাহায্য-সহযোগিতা ও সুবিধা লাভের আশায় মাছির মতো বিদেশীদের পেছনে লেগে থাকেন। বিদেশীদের অপতৎপরতা সত্ত্বেও স্বার্থান্ধ মানুষ এমন আচরণ করেন যেন তাদের ছাড়া আমাদের কোনো গতি নেই। তারাই যেন আমাদের ভবিষ্যৎ। এসব স্বার্থপরেরাই বিদেশী প্রভুদের প্রচারণায় আত্মনিয়োগ করেন। এমন গুরুত্ব দিয়ে প্রচার মাধ্যমগুলোতে তাদের তুলে ধরেন দেখে মনে হয় এসব বিদেশী প্রভুরাই আমাদের দেশের মালিক। অথচ বিদেশে আমাদের দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের তেমন কোনো সমাদর কিংবা প্রচার পেতে দেখা যায় না। নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূস বিশ্বে আলোচিত ব্যক্তিত্ব হওয়া সত্ত্বেও তিনি যখন দক্ষিণ কোরিয়ায় শান্তি পুরস্কার গ্রহণ করতে যান তখন সে দেশে তাকে নিয়ে মাতামাতি করতে দেখা যায়নি। আমি সে সময় কোরিয়াতেই অবস্থান করছিলাম। তিনি যে দিন পুরস্কার গ্রহণ করেন তার পরদিন কোরিয়ার পত্রপত্রিকাগুলোতে ড. ইউনূসের বিষয়ে খবর অন্বেষণ করেছি। ছয়-সাতটি পত্রিকার প্রথম পাতা থেকে শেষ পাতা পর্যন্ত খুঁজেও কোনো পত্রিকায় তার সম্পর্কে কোনো সংবাদ দেখতে পাইনি। সে সময় আমি কোরিয়ান ভাষা শিখছিলাম। ফলে একটি পত্রিকা আমি আমার বাসস্থানে নিয়ে যাই। বাসস্থান অর্থাৎ ডরমেটরিতে গিয়ে আবারো পত্রিকার পাতা উল্টাতে থাকি। অর্থাৎ ড. ইউনূসকে অন্বেষণ করতে থাকি। নোবেল বিজয়ী ইউনূস। তার ওপর কোরিয়ার শান্তি পুরস্কারও লাভ করেছেন। ফলে এমন একজন ব্যক্তিত্বের খবর এবং সে বিষয়ে ছবি স্বাভাবিকভাবেই প্রথম পাতায় ছাপা হবে সেটাই আমি প্রত্যাশা করেছি। যেমনটি বাংলাদেশের পত্রপত্রিকায় প্রত্যক্ষ করে থাকি। বিদেশী কেউকেটা কেউ এলেও আমাদের পত্রপত্রিকা তাকে নিয়ে কে কত বড় খবর (কভারেজ) ছাপতে পারেন তার প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠেন। প্রথম পাতায় বিরাট করে ছবি ছেপে খবর পরিবেশন করেন। মনে হয় যেন তিনি এ দেশের হর্তাকর্তা বিধাতা। কিন্তু ড. ইউনূস, গ্রামীণ ব্যাংকের মালিক ইউনূস, নোবেল বিজয়ী ইউনূস এবং শান্তি পুরস্কারপ্রাপ্ত ইউনূসকে নিয়ে কোরিয়ায় মাতামাতি করতে দেখলাম না। না পত্রপত্রিকায়। না টিভিতে। প্রথম ও শেষ পাতায় সে কারণেই সংবাদ না পেয়ে হতাশ হয়েছি। কিন্তু তার পরেও আশা ছাড়িনি। পত্রিকার ভেতরের পাতাগুলো তন্ন তন্ন করে খুঁজতে গিয়ে এক জায়গায় পেয়ে গেলাম ড. ইউনূসকে। সাদাকালোয় এত ছোট করে ছবি ছাপা হয়েছে যে, তা চোখে পড়ার মতো নয়। আমাদের দেশে বিদেশের কোনো নোবেল বিজয়ী এলে কী যে হুলস্থুল কাণ্ড ঘটতো তা ভাবাই যায় না। এই হচ্ছে ধনী ও দরিদ্র দেশের পার্থক্য। ধনী যারা, ক্ষমতাধর যারা সব ক্ষেত্রেই স্বাধীন তারা। নির্ভয়ে, স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারেন তারা। দরিদ্র যারা তারা সব সময় ভয়ে থাকেন। পরাধীনের মতো আচরণ করেন তারা। বিদেশী প্রভুদের পদলেহন করতে, খুশি করতে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হন তারা। মানসম্মান কিংবা আত্মমর্যাদা বলতে কিছুই থাকে না তাদের। তার পরেও তারা খুশি হন প্রভুসেবা করতে পেরে। এ ধরনের মেরুদণ্ডহীনদের স্বাধীনতা থাকে না। তারা অন্যের কাছে স্বাধীনতা বিকিয়ে দেন। অনেক ক্ষেত্রেই যেমনটি আমরা দিয়েছি। দিয়েছি দরিদ্র বলে। দিয়েছি দুর্বল বলে।
স্বাধীন দেশ হিসেবে আমরা চেয়েছিলাম বাংলাদেশ স্বাধীন অস্তিত্ব নিয়ে সামনের দিকে সসম্মানে এগিয়ে যাক। কিন্তু আমাদের পার্শ্ববর্তী প্রভাবশালী একটি দেশের নীতিনির্ধারক শক্তিশালী আমলাগোষ্ঠী চেয়েছিলেন বাংলাদেশ সর্বক্ষেত্রেই সে দেশের অনুগামী হোক। অর্থাৎ নিজের অস্তিত্ব ও স্বাধীন মর্যাদা বিসর্জন দিয়ে সে দেশের আজ্ঞাবহ দেশে পরিণত হোক। দরিদ্র ও দুর্বল দেশ বলে আমাদের পদলেহন ও তোষামোদী নীতির কারণেই তারা এমনটি চেয়েছেন এবং কিছু কিছু গোলামি চুক্তিতে আবদ্ধ করতে সক্ষম হয়েছেন। পরে পর্যায়ক্রমে চাকমা ইস্যু, গঙ্গার পানি প্রদান বন্ধ, পুশইনসহ নানা কার্যক্রম গ্রহণ করেছেন। সর্বশেষ রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে চাল ইস্যুকে কাজে লাগাতে সচেষ্ট রয়েছেন তারা।
২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস। এ দিবস উপলক্ষে পত্রপত্রিকায় বিশেষ সংখ্যা বের করা হবে। বড় বড় প্রবন্ধকার ও বুদ্ধিজীবীদের প্রবন্ধের সাহায্যে বিশেষ সংখ্যাকে বিশেষভাবে আকর্ষণীয় করা হবে। কে কত বাগাড়ম্বর করে লিখতে পারেন তার প্রতিযোগিতা হবে। স্বাধীনতা বিকিয়ে দেয়ার পক্ষের বুদ্ধিজীবীরা স্বাধীনতার জন্য মায়াকান্না করবেন। কিন্তু স্বাধীনতা বিপন্নকারী বিদেশী প্রভুদের পদলেহন নীতির পরিবর্তন করবেন না। আমাদের প্রত্যাশা, পদলেহনকারী সব ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিয়ে জাতি মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াবে। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হবে। বিশ্বদরবারে বাংলাদেশ সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশের মানুষ হবেন গৌরবান্বিত।
**************************
ড. আব্দুস সাত্তার
দৈনিক নয়াদিগন্ত, ২৬ মার্চ ২০০৮