National Events - http://events.amardesh.com
বাংলাদেশের জন্য এখন চরম দুঃসময়
http://events.amardesh.com/articles/119/1/aaaaaaaaaa-aaaa-aaa-aaa-aaaaaa/Page1.html
National Days
 
By National Days
Published on 03/26/2008
 

বাংলাদেশের জন্য এখন চরম দুঃসময়। ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জনের পর আর কখনো এত দুঃসময়ের মুখোমুখি হয়নি বাংলাদেশ। আর বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এত সর্বব্যাপী ষড়যন্ত্রও হয়নি আগে কখনো। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি গত সাত বছরের ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রের ফসল।


বাংলাদেশের জন্য এখন চরম দুঃসময়

বাংলাদেশের জন্য এখন চরম দুঃসময়। ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জনের পর আর কখনো এত দুঃসময়ের মুখোমুখি হয়নি বাংলাদেশ। আর বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এত সর্বব্যাপী ষড়যন্ত্রও হয়নি আগে কখনো। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি গত সাত বছরের ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রের ফসল।

কিন্তু কেন এই ষড়যন্ত্র? তার প্রধান কারণ বাংলাদেশের প্রাপ্ত তেল-গ্যাস-কয়লার মতো জ্বালানিসম্পদ। এই প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর শ্যেনদৃষ্টি দীর্ঘকালের। তার ওপর এখন ধারণা করা হচ্ছে, বঙ্গোপসাগরেও রয়েছে বিপুল তেল-গ্যাস। বর্তমান বিশ্বে জ্বালানি সঙ্কট বাড়ছে। নতুন নতুন দেশের শিল্প সাফল্যের কারণে বিশ্বে জ্বালানির চাহিদা বেড়েছে ব্যাপকভাবে। এ বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। এদিকে পৃথিবীতে প্রাকৃতিক জ্বালানি সম্পদের রিজার্ভ দ্রুত শেষ হয়ে আসছে। সুতরাং বাংলাদেশের জ্বালানিসম্পদ কব্জা করতে হবে, যেভাবে পারা যায়। কিন্তু এ সম্পদ দখল করার জন্য প্রথমেই বাংলাদেশের ওপর নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করে বাংলাদেশকে মানসিকভাবে দুর্বল করে দিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র তার নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ার ধ্বংস করে সেই অজুহাত তৈরি করেই রেখেছে। এদিকে বিশ্বের যা কিছু জ্বালানিসম্পদ তার অধিকাংশই মুসলিম দেশগুলোয় আছে। টুইন টাওয়ার ধ্বংস করে তথাকথিত ইসলামি জঙ্গিবাদী খোঁজার নামে সেসব দেশে হস্তক্ষেপ করার পথ পরিষ্কার করে রেখেছে। সে রকম একটা মিথ্যা অজুহাত তুলে যুক্তরাষ্ট্র দখল করে নিয়েছে মুসলমান রাষ্ট্র ইরাক ও আফগানিস্তান। এখন ইরানের ওপর হামলার নানা অজুহাত দাঁড় করানোর অপচেষ্টা চলছে। ইরাক-ইরান উভয়েই জ্বালানি তেলসমৃদ্ধ দেশ। স্যাটেলাইট চিত্র থেকে যখন প্রায় নিশ্চিত হওয়া গেল, বঙ্গোপসাগরে রয়েছে বিপুল তেল-গ্যাসের রিজার্ভ তখন থেকেই ষড়যন্ত্র শুরু হলো বাংলাদেশের বিরুদ্ধে।

বাংলাদেশ পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলমান প্রধান দেশ। সুতরাং বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রচারণা শুরু হলো, এখানে ইসলামি জঙ্গি রয়েছে। তারা পৃথিবীতে নানা ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। এখানে রয়েছে জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ শিবির। এখানে মৌলবাদীরা তলোয়ার নিয়ে বসে আছে। এখানে কোনো মানুষের চলাফেরাই নিরাপদ নয়। পৃথিবীর যেসব রাষ্ট্র আগে বারবার বলেছে, বাংলাদেশ একটি উদারপন্থী মুসলিম দেশ। তারাও বলতে শুরু করল, বাংলাদেশ ইসলামি জঙ্গিবাদীদের ঘাঁটি। এই প্রচারণা দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে আসছিল ভারত। তাদের সঙ্গে যুক্ত হলো পশ্চিমা প্রচার মাধ্যম। এই অপপ্রচার চালাতে দেশীয় মীরজাফরদের অভাব হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকারও পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী ব্যক্তির প্রিয়ভাজন হওয়ার জন্য সরকারি খরচে পুস্তক-পুস্তিকা ছাপিয়ে বিশ্বব্যাপী বিতরণ করল, বাংলাদেশ কী ভয়াবহ ইসলামি জঙ্গিবাদের দেশ! আর সেই জঙ্গিবাদের মদদদাতা হলো বিএনপি ও তার সহযোগী জামায়াতে ইসলামী। অর্থাৎ সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো যেন এমন ব্যবস্থা করে দেয়, যাতে আওয়ামী লীগ চিরদিন ক্ষমতায় থাকতে পারে, আর বিএনপি ও তার সহযোগীরা কোনো দিন ক্ষমতায় আসতে না পারে। এই সঙ্কীর্ণ স্বার্থে কিভাবে যে তারা রাষ্ট্রের স্বার্থ বিকিয়ে দিচ্ছিল, সে কথা বোধ হয় তখন তাদের কেউ চিন্তা করে দেখেনি। কিন্তু বাংলাদেশে কোথায় মৌলবাদ? অথচ বাংলাদেশে যদি মৌলবাদ না থাকে, তাহলে তাকে ঘায়েল করা যাবে কিভাবে?

তাহলে গড়ে তুলতে হবে মৌলবাদী সংগঠন। লেগে গেল ভারতীয় চক্রান্তকারীরা। এক অতি তুচ্ছ সংগঠন জেএমবিকে অর্থ দিয়ে, প্রশিক্ষণ দিয়ে, ডজন ডজনবার ভারত ভ্রমণ করিয়ে তাদের দাঁড় করিয়ে দেয়ার চেষ্টা করল জঙ্গিবাদী চক্র হিসেবে। এই সংগঠনই সারাদেশের সব জেলা শহরের আদালতে একযোগে বোমা হামলা চালিয়ে স্তম্ভিত করে দিলো গোটা দেশকে। তখন চারদলীয় জোট সরকারের শাসনকাল। আওয়ামী লীগসহ বিরোধী দলগুলো ও সাম্রাজ্যবাদী ষড়যন্ত্রের অংশীদার মিডিয়া একযোগে প্রচার করতে শুরু করল, হামলাকারী এই ইসলামি জঙ্গিবাদীদের সঙ্গ দিয়েছে বিএনপি আর হামলাকারীরা সব জামায়াতের সদস্য। শুধু দেশে নয়, দেশের বিরোধী দলগুলো সারা বিশ্বে যোগাযোগসহ এ কথা প্রচার করতে শুরু করল যে, বাংলাদেশ ইসলামি জঙ্গিবাদী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। এই অপপ্রচারকারীরা কাল্পনিক নির্যাতনের ছবি বানিয়ে বিশ্বে প্রচার করেছে। কিছু লোককে জঙ্গিবাদী ‘আল্লাহর দল’ সাজিয়ে প্রচার করেছে। উদ্দেশ্য ছিল জোট সরকারের ক্ষতি করা। কিন্তু তাদের এই অপপ্রচারের ফলে রাষ্ট্রের অস্তিত্বই যে হুমকির মুখে পড়ে গেল, সেটা খেয়াল করলেন না তারা। কিংবা মীরজাফর হিসেবে সেই উদ্দেশেই কাজ করে যেতে থাকল এসব রাষ্ট্রদ্রোহী ব্যক্তি।
কিন্তু যত কথাই বলা হোক, থমকে গিয়েছিল জোট সরকারও। তদন্ত শুরু হলো। তাদের লুকিয়ে রাখা বিস্ফোরকাদি উদ্ধার হতে থাকল। তাদের ভারত কানেকশন বের হয়ে আসতে শুরু হলো। ওই সংগঠনের নেতারা বছরে ১৫-২০ বারও ভারত সফর করেছে সে রকম প্রমাণ মিলল। আর যা কিছু বিস্ফোরক উদ্ধার হলো, তার সবই ভারতীয় সমরাস্ত্র কারখানায় তৈরি। বৃহৎ ও শক্তিশালী ভারত এর কোনো জবাব দিলো না। সরকার স্তম্ভিত হয়ে পড়ল।

ভারতের অর্থনীতি দ্রুত বর্ধনশীল। তারও জ্বালানি চাই। তাই এযাবৎকালের সর্ববৃহৎ এক বিনিয়োগ প্রস্তাব নিয়ে এলো ভারতের টাটা কোম্পানি। টাকার হিসাবে ১২ হাজার কোটিরও বেশি সে প্রস্তাব। কিন্তু কী চাই? পানির দরে চাই গ্যাস ও কয়লা। তবেই বিনিয়োগ। আলাপ-আলোচনা হয়েছে। কিন্তু জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক জোট সরকার সেই অসম অযৌক্তিক প্রস্তাবে রাজি হতে পারেনি। এ কাজটা খুব সহজ হতো না আওয়ামী লীগের জন্যও। আওয়ামী লীগ সরকার যত সহজে দেশবাসীকে আড়াল করে ভারতের অনুকূলে গঙ্গার পানি চুক্তি করতে পেরেছিল, তত সহজে ভারতকে গ্যাস-কয়লা দিয়ে দেয়ার চুক্তি করা যেত না। কারণ পানির স্লুইস গেট ভারতের হাতে। কিন্তু গ্যাস-কয়লা বাংলাদেশের ভেতরে।

তাহলে কী করা যায়। ভারতীয় আধিপত্যবাদ আর মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও তার দোসররা এক হলো। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিত্বমূলক সরকার ক্ষমতায় এলে ফায়দা হাসিল করা কঠিন হতে পারে। তাই এমন এক দুর্বল জনভিত্তিহীন সরকারকে ক্ষমতায় বসাতে হবে। যারা পুরোপুরি নির্ভরশীল হবে এসব বিদেশী শক্তির ওপর, জনগণের ওপর নয়। তাই চক্রান্তের অংশ হিসেবেই এসেছে বর্তমান সরকার।

এ সরকার ক্ষমতায় এসে দুর্নীতি দমনের নামে রাজনীতিবিদদের গণহারে আটক করে। বিশেষ করে জাতীয়তাবাদী ধারার রাজনীতিকরাই হন তাদের মূল টার্গেট। এ সরকার তাদের এক বছরে যে লাখ লাখ লোককে বিনা বিচারে আটক রেখেছে তার বেশিরভাগই রাজনৈতিক কর্মী। ফলে দেশব্যাপী এক অস্থির আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। শুধু রাজনীতিবিদই নন, তারা ব্যাপক হারে আটক ও তাড়া করতে শুরু করে ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের। দেশের প্রায় ৩০টি বড় শিল্প গ্রুপের প্রধানের মধ্যে প্রায় ২০ জনকেই তারা জেলে পুরেছেন। ফলে আমদানি-রফতানি ও নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাপক ধস নামে। ব্যাংকগুলোতে জমে অলস টাকার পাহাড়। হকার উচ্ছেদের নামে বেকার করা হয়েছে প্রায় ১ কোটি লোককে। ব্যবসায়ীরা ভয়ে-আতঙ্কে আমদানি বন্ধ করে দেন। ফলে সারাদেশে দ্রব্যমূল্য চলে যায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তেল-চাল-ডাল প্রভৃতি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বাড়তেই থাকে। এখন বাজার স্থিতিশীল রাখার প্রয়াস এই সরকারও ছেড়ে দিয়েছে। মূল্য বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে সরকারের এক উপদেষ্টা কম খাওয়ার পরামর্শ দেন।

এসব পদক্ষেপের ফল কী দাঁড়াল? শত শত বছরের পুরনো হাটবাজার ভেঙে দিয়ে হকার উচ্ছেদের ফলে কোটি মানুষ পথে বসেছে। তাদের ক্রয়ক্ষমতা পৌঁছে গেছে একেবারে সর্বস্বান্ত পর্যায়ে। ফলে শিল্পপণ্যের চাহিদা কমেছে। কারণ মানুষ আগে পেটে ভাত চায়। তারপর অন্যান্য সামগ্রী। শিল্পপণ্যের চাহিদা কমলে শিল্পকারখানায় মন্দা দেখা দিতে বাধ্য। দিয়েছেও তাই। বড় বড় ব্যবসায়ী জেলে বা আত্মগোপন করে থাকায় তারা নতুন করে বিনিয়োগ করছেন না। ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে না। একদিকে কোটি কোটি লোককে বেকার করে দেয়া, অপর দিকে নতুন কর্মসংস্থান না হওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনমান হ্রাস পেয়েছে, ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। তার ওপর অসহনীয় দ্রব্যমূল্য জনজীবনে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশের উত্থান রহিত করা গেছে।

এর পাশাপাশি সঙ্গোপনে বঙ্গোপসাগরের তেলের ব্লকগুলো অনুসন্ধানের জন্য আন্তর্জাতিক টেন্ডার আহ্বান করেছে। অর্থাৎ সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো তার স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য ১/১১-এর ঘটনা ঘটিয়েছে, তা হাসিল হতে যাচ্ছে।
এর মধ্যে জনগণ যাতে ঐক্যবদ্ধ না হতে পারে, যাতে চক্রান্তকারীদের বিষদাঁত ভেঙে দিতে না পারে সে জন্য অত্যন্ত কৌশলে একটি মীমাংসিত বিষয়কে নিয়ে দেশের মধ্যে বিভেদ আর হানাহানির পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। সেটা হলো যুদ্ধাপরাধীদের বিচার। ১৯৭২ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ১৯৫ জনকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করেছিল অনেক যাচাই-বাছাইয়ের পর। তারপর ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ-ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে ওই ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীকে ক্ষমা করে পাকিস্তান চলে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়া হয়। ব্যাপারটির এখানে যতি পড়ে।
কিন্তু আজ হঠাৎ করেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি কেন? আর সে দাবি ওই ক্ষমা করে দেয়া ১৯৫ জনের বিচার নয়। সে দাবি নতুন করে যুদ্ধাপরাধী সাব্যস্ত করে তাদের বিচার করতে হবে। সে ক্ষেত্রে বিচারের দাবি যারা করছেন, তারা জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের দিকেই অঙ্গুলি নির্দেশ করছেন। কিন্তু কেন? কারণ বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের সংরক্ষক তারাই, যারা বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী। বিএনপি ও জামায়াত সে মতাদর্শের ধারক। বিএনপি ও জামায়াত একত্র থাকলে তারা বড় শক্তি হিসেবে থেকেই যাবে এবং সুষ্ঠু, অবাধ নির্বাচন হলে তারা আবারো সরকার গঠন করবে। সেটা চক্রান্তকারীদের জন্য সুসংবাদ হবে না। বিএনপি নেতাদের কারাগারে পুরে ও কিছুসংখ্যক বিশ্বাসঘাতককে দিয়ে ওই দলকে অনেকখানি কোণঠাসা করে ফেলা হয়েছে। এখন যুদ্ধারপরাধী বিচারের নামে জামায়াতকে ছত্রখান করতে পারলে বাংলাদেশের সম্পদ লুটের পথে আর কোনো বাধা থাকে না।

তাতেও যদি না কুলায়, সে জন্য সরকার আর একটি নতুন ইস্যু বাজারে ছেড়ে দিয়েছে। সেটি হলো নারী-পুরুষের সমানাধিকারের নামে কুরআন ও সুন্নাহবিরোধী নীতি ঘোষণা। ইতোমধ্যেই আলেম সমাজ এই ঘোষণাকে আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা অভিহিত করেছেন। সরকার যদি এই নীতি নিয়ে এগিয়ে যায়, তাহলে ৯০ শতাংশ মুসলমানের দেশে উত্তাল বিক্ষোভ হবে। সরকার ও তাদের মদদকারী সাম্রাজ্যবাদীরা তখন ইসলামি জঙ্গি দমনের নামে এ দেশে হাজির হতে পারবে।

আর গণতন্ত্র? গণতন্ত্র এখন আর নেই। গণতন্ত্রের ভিত্তি সংবিধান। সেই সংবিধান দুমড়ে-মুচড়ে একাকার করে ফেলেছে বর্তমান অগণতান্ত্রিক ও অসাংবিধানিক সরকার। সংবিধান কেবল সরকারই লঙ্ঘন করেনি, লঙ্ঘন করেছে নির্বাচন কমিশনও। পেছনে যারা কাজ করছে তারাও লঙ্ঘন করেছে সংবিধান। ফলে তারা যে গণতন্ত্র আনতে চাইছে, সে গণতন্ত্র আসবে জনপ্রত্যাখ্যাত লোকদের দ্বারা। পেছনের শক্তিই থাকবে রাষ্ট্র পরিচালনায়। সেটাই সাম্রাজ্যবাদী ও আধিপত্যবাদী শক্তির পরিকল্পনা। ফলে প্রকৃত গণতন্ত্র এখন সুদূরপরাহত।

তাহলে উপায়? উপায় জনগণ। আমরা যারা সাধারণ মানুষ, তাদেরই এ ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, সজাগ থাকতে হবে। এ দেশ সাধারণ মানুষের। যড়যন্ত্রকারীদের নয়। তাই দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সংরক্ষণের স্বার্থে সব ভেদাভেদ ভুলে আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি, নিশ্চয়ই আমরা সব দেশী-বিদেশী চক্রান্তকারীকে হটিয়ে দিতে পারব। আল্লাহ আমাদের সহায়।
 
**************************
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
দৈনিক নয়াদিগন্ত, ২৬ মার্চ ২০০৮