National Events - http://events.amardesh.com
স্বাধীনতার ৩৬ বছরঃ এগিয়ে যে যেতেই হবে
http://events.amardesh.com/articles/10/1/aaaaaaaaaa-aa-aaaa-aaaaa-aa-aaaaa-aaa/Page1.html
Article Poster
 
By Article Poster
Published on 12/16/2007
 
(ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী) স্বাধীনতা অর্জনের ৩৬ বছরে এ দেশের মানুষের সাফল্যের তালিকা দীর্ঘ। উদ্যমী, পরিশ্রমী, নির্ভীক মানুষেরা। এই ৩৬ বছরে এ দেশের মানুষ মাথাপিছু আয় বাড়িয়েছে প্রায় ৪ গুণ। শিক্ষার হার ১৭ শতাংশ থেকে ৬৪ শতাংশে উন্নীত করেছে।

স্বাধীনতার ৩৬ বছরঃ এগিয়ে যে যেতেই হবে

স্বাধীনতা অর্জনের ৩৬ বছরে এ দেশের মানুষের সাফল্যের তালিকা দীর্ঘ। উদ্যমী, পরিশ্রমী, নির্ভীক মানুষেরা। এই ৩৬ বছরে এ দেশের মানুষ মাথাপিছু আয় বাড়িয়েছে প্রায় ৪ গুণ। শিক্ষার হার ১৭ শতাংশ থেকে ৬৪ শতাংশে উন্নীত করেছে। শিশুমৃত্যু ও প্রসূতি মৃত্যুর হার হ্রাস করেছে। পরিকল্পিত মাছ ও হাঁস-মুরগির চাষ করে ৭ কোটির জায়গায় ১৫ কোটি মানুষের প্রোটিনের সরবরাহ করছে। খাদ্যে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। প্রতি বছর দারিদ্র্যসীমা অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে এসেছে ৯ শতাংশ মানুষ। স্কুলে যাওয়ার বয়সী মেয়ে ও ছেলে শিশু সমান হারে স্কুলে যাচ্ছে। ৯৮ শতাংশ শিশু স্কুলে ভর্তি হচ্ছে। বাজেট বরাদ্দের মাত্রা বেড়েছে প্রায় ২০ গুণ। সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক উন্নতি হয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা বেড়েছে। ভৌত ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে চোখে পড়ার মতো। শিল্প-কলকারখানা বেড়েছে। আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ বেড়েছে। এমনকি এক বছর আগেও বাংলাদেশের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থা গোল্ডম্যান শার্স ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল যে, ২০১৫ সালের মধ্যে নতুন যে ১১টি দেশ নতুন অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে, বাংলাদেশ হবে তার একটি। সেভাবেই এগোচ্ছিল এ দেশের মানুষ। সেদিক বিবেচনা করলে এই ৩৬ বছরে বাংলাদেশের অর্জন চমৎকার।

হ্যাঁ, আমরা আরো অগ্রসর হতে পারতাম, সন্দেহ নেই। অর্জন সাধারণ মানুষই করে। কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে যারা থাকেন, তারা পথ-প্রদর্শকের ভূমিকা গ্রহণ করেন। সেখানে যদি ভুল হয়ে যায়, যদি পথের দিশা না পাওয়া যায়, তাহলে খাবি খেতে হয় মাঝপথে। তখন ধীরগতি হয়ে পড়ে সব কর্মকাণ্ড। কিন্তু মানুষ যখনই দিকনির্দেশনা পেয়েছে, তখনই সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে দ্রুত এগিয়ে গেছে অগ্রগতির সোপান ধরে।

একটি জাতিগোষ্ঠী কেন স্বাধীনতা চায়? কেন চায় স্বাধীন রাষ্ট্র? সেটা প্রথমত আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের জন্য। দ্বিতীয়ত, অর্থনৈতিক মুক্তি এবং জাতীয় অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির জন্য। সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষার জন্য। তবে অর্থনৈতিক অগ্রগতিই থেকে যায় সামনে। দারিদ্র্য যদি জয় করা না যায়, তাহলে কোনো কিছুই অর্থবহ হয় না। শোষণ-বঞ্চনার ভেতরে থাকলে, আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠিত না হলে দারিদ্র্য জয় করা যায় না। পাকিস্তান রাষ্ট্র কাঠামোতে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত এ দেশের মানুষই নিয়েছিল। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিতও হয়েছিল। সে ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে আমরা ধর্মের ঐক্যকে বড় করে দেখেছিলাম। কিন্তু পাকিস্তান রাষ্ট্র কাঠামোর ভেতরে, এ দেশের মানুষ সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল না। সেখানে মনে করার যথেষ্ট কারণ ঘটেছিল যে, আমরা আসলে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের কাছ থেকে ন্যায়বিচার পাচ্ছি না। আমরা বরং তাদের দ্বারা শোষিত, বঞ্চিত, নিপীড়িতই হচ্ছি। এমনকি রাষ্ট্র পরিচালনায় আমাদের অংশীদারিত্বও তারা মেনে নিতে চায়নি। অর্থাৎ আমাদের ভাগ্য নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল পাকিস্তানি শাসকদের দয়া ও মর্জির ওপর। তা ছাড়া আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকারগুলোও পর্যুদস্ত হচ্ছিল তাদের হাতে। আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার বলি আর অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিই বলি, তার জন্য দরকার গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা। যে জনগণের জন্য রাষ্ট্র, সেই জনগণের প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর মধ্যে সে বোধের বড়ই অভাব ছিল। ফলে পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ (পূর্ব পাকিস্তানবাসী) বঞ্চিতই থেকে গেছে। এ রকম অবস্থা আমরা মেনে নেইনি। পাকিস্তান বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি।

স্বাধীন রাষ্ট্রে প্রতিটি নাগরিকেরই এ কথা ভাবার অধিকার আছে যে, এ রাষ্ট্র আমার। সেটা দেশপ্রেমেরও অংশ। নাগরিক যদি ভাবতে পারে, এ রাষ্ট্র আমার, তাহলে রাষ্ট্রের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, রাষ্ট্রের কল্যাণ, তার সুরক্ষা সব কিছুর দায় নাগরিকের ওপরই বর্তায়। আর কোনো শ্রেণীর লোক যদি মনে করে এ রাষ্ট্র আমাদের, আমরা গুটিকয়েকের, তাহলে সেখানে স্বৈরতন্ত্র ভিত গাড়ে, অগ্রযাত্রা ব্যাহত হয়। স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত। তখন নিজের রাষ্ট্রকে স্বৈরতন্ত্রের হাত থেকে রক্ষার জন্য নাগরিকরা আবার লড়াই করে। তবে লড়াই লড়াই-ই। লড়াই থমকে দেয়। পিছিয়ে দেয়। সে ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার জন্য নাগরিকরা অনুকূল পরিবেশ পেলে বহু গুণ উৎসাহে কর্মযজ্ঞে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

এই কর্মযজ্ঞে সাফল্যের জন্য জাতীয় ঐক্যও খুব গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। জাতীয় ঐক্য ছাড়া রাষ্ট্র যেমন প্রতিষ্ঠা করা যায় না, তেমনি রাষ্ট্রের অস্তিত্ব টিকিয়েও রাখা যায় না। আবার জাতীয় ঐকমত্য ছাড়া অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিও দুরূহ ব্যাপার।

এদিকে ঐক্যই আমাদের জাতিসত্তার বৈশিষ্ট্য। ঐক্য ছিল বলেই বাংলা ভাষাভাষী অঞ্চলে বাংলাদেশ ভূখণ্ডের মানুষ আলাদা জাতি হিসেবে গড়েছে। এখানকার মানুষের এমন নিবিড় ঐক্য কে দিল? সেটা দিল প্রকৃতি। বাংলাদেশ ভূখণ্ডের প্রাকৃতিক পরিবেশই এমন যে, ঐক্য ছাড়া এই জনপদের মানুষের টিকে থাকাই অসম্ভব ব্যাপার হয়ে দাঁড়াতো। ঘূর্ণিঝড়-বন্যা-জলোচ্ছ্বাস এখানকার মানুষের নিয়তি। বন্যায় ভাসিয়ে নিয়ে গেছে গ্রামকে গ্রাম, নদীভাঙনে নিঃস্ব-নিরাশ্রয় হয়ে গেছে শত শত মানুষ। ঝড়-জলোচ্ছ্বাস সমান করে দিয়ে গেছে সাজানো সংসার। আবার কেমন করে ঘুরে দাঁড়িয়েছে মানুষ? দাঁড়িয়েছে পরস্পরের সহায়তার হাত ধরে। একজনের বিপদে দশজন এগিয়ে এসেছে। সবাই মিলে তুলে দিয়েছে অপরের ঘর। সবাই মিলে রক্ষা করেছে পরস্পরের শস্য কিংবা সম্পদ। তাই ঐক্য না থাকলে এ জনপদে মানুষের বসতি থাকত না। স্তম্ভিত হয়ে গেছে তারা। শেখ মুজিবুর রহমান গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছেন, মৌলিক মানবাধিকারের জন্য লড়াই করেছেন। সে লড়াইয়ে জনগণই তাকে শক্তি যুগিয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে সেই জনগণের সব অধিকার কেড়ে নিয়েছেন শেখ মুজিবুর রহমান। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বাহিনী দিয়ে গণনির্যাতন করেছেন। ভিন্ন মতাবলম্বীদের প্রাণ হরণ করা হয়েছে। নানা ধরনের কালাকানুন জারি করে জনগণকে ক্রীতদাসে পরিণত করার প্রয়াস পেয়েছিলেন তিনি। ফলে স্বদেশেই যেন বন্দী হয়ে পড়েছিল মানুষ। তিনি একে একে কেড়ে নিয়েছিলেন মত প্রকাশের স্বাধীনতা, চলাফেরার স্বাধীনতা, কথা বলার স্বাধীনতা। অপরিমেয় লুটের কারণে তার আমলেই ১৯৭৪ সালের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ কেড়ে নিয়েছিল লাখ লাখ মানুষের প্রাণ। কিন্তু গণতন্ত্রের পথে ফেরেননি শেখ মুজিবুর রহমান। জাতীয় ঐক্যের কথাও ভাবেননি। বরং শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক ভিন্নমত প্রকাশের পথও রুদ্ধ করে দিয়েছিলেন তার নিজের একটি দল করে বাকি সব দল নিষিদ্ধ করে। কেন করলেন তিনি এমন? অপরিমেয় ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার জন্য। ক্ষমতা চাই, আরো ক্ষমতা চাই। না, টিকেনি শেখ মুজিবের স্বৈরশাসন। ১৯৭৫ সালে তার করুণ পরিণতি ঘটেছিল। কিন্তু যত দিন তিনি শাসন করেছেন, তত দিন দেশ অর্থনীতির ক্ষেত্রে একেবারে দেউলিয়া হয়ে পড়েছিল।

এরশাদের স্বৈরশাসন নয় বছর (১৯৮১-১৯৯০) জারি ছিল। কেমন করে থাকল? এরশাদ লুটেরাদের শাসন কায়েম করেছিলেন। লুটেরার সংখ্যা বাড়িয়েছিলেন। আর একশ্রেণীর অপরিণামদর্শী রাজনীতিককে কব্জা করে নিয়েছিলেন। বিভেদ তৈরি হয়েছিল রাজনীতির ক্ষেত্রে। এ বিভেদের সুযোগ তিনি পুরোমাত্রায় ব্যবহার করেছেন। করে দীর্ঘকাল ক্ষমতায় থেকেছেন। কিন্তু যে আওয়ামী লীগ এরশাদের শাসনকে সমর্থন দিয়ে গেছে, তার নেতা-নেত্রী প্রথমে বুঝতেও পারেননি যে, তাদের পায়ের তলার মাটি সরে যাচ্ছে। কর্মীরা মানছে না নেতাদের নির্দেশ। স্বৈরশাসক এরশাদকে হঠানোর জন্য জনগণ যখন নিজেরাই পথে নামল, তখন নেতৃত্ব ধরে রাখার স্বার্থে আওয়ামী নেত্রী শেখ হাসিনাকে ভোল পাল্টাতে হলো। এবং জনরোষে বিদায় হলেন এরশাদ। এখানেও শেষ পর্যন্ত জনগণের বিজয় হলো। কিন্তু এই নয় বছরে কাম্য গতিতে অগ্রসর হতে ব্যর্থ হলো দেশ। অর্থাৎ স্বৈরশাসক আসে এবং স্বৈরশাসক যায়। জনগণই তাদের হটিয়ে দেয়, কিন্তু অর্থনীতি অগ্রগতি রুদ্ধ হয়ে পড়ে। তাতে স্বৈরশাসকদের কি হয় না হয়, জনগণকেই গুনতে হয় অর্থনীতির ক্ষতির মাশুল।

১৯৯১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত গণতন্ত্রের চর্চা হলো এ দেশে। তাতে মানুষ দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকল সমৃদ্ধির পথে। ওই ১৫ বছরের ১০ বছরই ক্ষমতায় ছিল বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন সরকার। পাঁচ বছর আওয়ামী লীগ ও তার মিত্ররা। ২০০১ সালের নির্বাচনে হেরে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে গেল আওয়ামী লীগ। জোট সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে আগে নানা দাবি-দাওয়া তুলে অস্থির পরিস্থিতি সৃষ্টি করল। আজ এ দাবি এলে কাল সে দাবি। এ দাবি পূরণ হলে নতুন দাবি। আর সে দাবি আদায়ের জন্য গুণ্ডা-মাস্তান দিয়ে দেশ অচল করে দেয়ার কর্মসূচি। এভাবে চলতে চলতে সিদ্ধান্তহীন জোট সরকার বিদায় নিল ২৭ অক্টোবর ২০০৬। পরদিন অর্থাৎ ২৮ অক্টোবর আওয়ামী নেত্রীর আহ্বানে লগি-বৈঠা দিয়ে প্রকাশ্য রাজপথে ডজন ডজন মুভি ক্যামেরার সামনে পিটিয়ে হত্যা করা হলো মানুষ। তারপরও চলল সে ভয়ঙ্কর দেশঘাতী সন্ত্রাস। এই সুযোগের অপেক্ষায় ছিল বাংলাদেশবিরোধী দেশী-বিদেশী চক্রান্তকারীরা। আওয়ামী লীগকে হাওয়া দিল, চালিয়ে যাও। অচল হয়ে গেল দেশ, শিক্ষা, শিল্প, উৎপাদন, কৃষি, জনপথ অচল হলো আওয়ামী সন্ত্রাসীদের ভয়ে।

কিন্তু স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, মৌলিক মানবাধিকার­ এসব বিষয়ের কী হলো? জনগণের রাষ্ট্রে জনগণ যে রাস্তায় বের হতে পারল না। তাদের রুটি-রুজির পথ যে বন্ধ হলো, তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করা যে হলো না, অবাধে চলাচলের স্বাধীনতা যে বিঘ্নিত হলো, তার কি হলো। আওয়ামী লীগ ভয় দেখিয়ে জয় করতে চাইল। ভয় দেখিয়ে কি জয় করা যায়? ভাবতে চাইল না তারা। তৈরি পোশাক শিল্পের মালিকরা আবেদন করল, পোশাক রফতানিকে অবরোধের আওতার বাইরে রাখা হোক। শেখ হাসিনা বললেন, তারা ক্ষমতায় গেলে যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে বলে পোশাকের কোটা বাড়িয়ে দেবেন। যেন বুশ প্রশাসন শেখ হাসিনার নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে। এমন এক দম্ভ এলো।

আর তারই পরিণতিতে স্বাধীনতার ৩৫ বছর পর ভিন্ন ধরনের এক সরকার এলো। অনির্বাচিত, জবাবদিহিতাহীন, দায়হীন, দায়িত্বহীন, জনগণের সাথে সম্পর্কহীন। এমনকি সংবিধানের সমর্থনহীন। সরকার বলল, তারা সেনাবাহিনীর ‘সমর্থনপুষ্ট’ যথেষ্ট।

এ সরকার ক্ষমতায় আছে ১১ মাস। এই ১১ মাস ভড়কে দিয়েছে নাগরিকদের। এ রকম একটি সরকারের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য যুদ্ধ করেনি কেউ। এদের অদূরদর্শী ভুল নীতির কারণে দেশ কেবলই পেছনের দিকে যাচ্ছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণহীন। রফতানি বাণিজ্যে স্থবিরতা। বিনিয়োগ নেই। ব্যবসায়ীরা ভীত-সন্ত্রস্ত। রাজনীতিকরা জেলে। সঁ্যাতসঁ্যাতে ভূমিতে গজিয়ে উঠছে ব্যাঙের ছাতার মতো রাজনৈতিক দল। কলাটা মুলাটা চাই। দুর্নীতিরোধের নামে বিশ্বের ইতিহাসে বিরল ধরনের এক সরকারের কার্যক্রমে দেশের মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত হলো। কর্মঠ মানুষদের কর্মোদ্যম থেমে গেল। বন্ধ্যার সময় ডেকে জেঁকে বসল। এখন কেবলই খাবি খাওয়া।

কিন্তু স্বাধীনতা অর্জনের স্বপ্নে আমরা তো ‘তিমিরবিনাশী’ হতে চেয়েছিলাম। আমরা কি ‘তিমিরবিলাসী’ হয়ে গেলাম? কিন্তু সব বাধা অতিক্রম করে আমাদের এগিয়ে যেতেই হবে। সে ক্ষেত্রে পরিকল্পিতভাবে বিভেদের ভেদরেখা যারা তৈরি করছে, তাদের পাশে জনগণের সর্বাত্মক ঐক্য প্রতিষ্ঠা করে চলতে হবে পথ। আজকের দিনে সেটা হোক আমাদের শপথ।
 

************************
লেখকঃ ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
দৈনিক নয়াদিগন্ত, ১৬ ডিসেম্বর ২০০৭